‘করোনা সংকটে সঞ্চয় ভেঙে চলছেন অনেকে’

প্রকাশিত: ৩:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০
0Shares

করোনা সংকটকালে অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে চলছে। অন্যদিকে, ঋণগ্রহীতাদের অনেকে ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ ৪ জুলাই (শনিবার)সরকারি নিজ বাসভবন থেকে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ খাতের অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী। করোনার আকস্মিক অভিঘাত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় ও জীবনযাপনে ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব। অনেকেই এখন সঞ্চয় ভেঙে চলেছে। ঋণগ্রহীতাদের কেউ কেউ ঋণের কিস্তি দিতে হিমমিশ খাচ্ছে। এ সময়ে তাদের ওপর কিস্তি শোধের বাড়তি চাপ জীবনযুদ্ধ থেকে ছিটকে দিতে পারে।

’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার অর্থনীতির প্রতিটি খাতকে চাঙ্গা রাখতে বাজেটে প্রণোদনাসহ নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। ঋণগ্রস্ত মানুষের এ সময় কিস্তির বাড়তি চাপ আপাতত কিছুদিনের জন্য কমাতে কিংবা বন্ধ রাখতে আমি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ এনজিওবিষয়ক ব্যুরো এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি ছোট ছোট এনজিও পড়েছে তহবিল সংকটে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সমন্বয় করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ এ সময় ভাড়াটেদের সঙ্গে বাড়িওয়ালাদের অমানবিক আচরণ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংকটে অনেকের আয় কমেছে, হারিয়েছে চাকরি।

আবার কেউ কেউ পরিবার নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে একে অপরের প্রতি সমব্যথী হতে হবে। এ কথা সত্য যে, কোনো কোনো বাড়িওয়ালা আছেন ভাড়া থেকে পাওয়া আয়ই তাদের একমাত্র উৎস। আবার তার ওপর ব্যাংক লোনও থাকতে পারে। তাই আমি পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপক্ষকে ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে তৈরি পোশাকশিল্প ও অন্য শিল্পগুলোয় ঈদের আগে পর্যায়ক্রমে ছুটি দিতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বরাবরের মতো এবারও ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ করে মালিকরা সহমর্মিতার নজির স্থাপন করবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

ঈদের আগে ও পরে আট দিন সড়ক-মহাসড়কসংলগ্ন সিএনজি স্টেশনগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে বলে জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ঈদুল আজহার তিন দিন আগে থেকে সড়ক-মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বন্ধ থাকবে। তবে কৃষি, শিল্প ও রপ্তানিমুখী পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ত্রাণ, জ্বালানি, ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল পণ্যসহ জরুরি সেবা এর আওতামুক্ত থাকবে।

’ কোরবানির পশুর হাটে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এরই মধ্যে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক-মহাসড়কের ওপরে কিংবা আশপাশে পশুর হাট বসানো যাবে না। প্রয়োজনে এ বছর কমসংখ্যক হাট বসানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে অনলাইনে পশু বেচাকেনার বিষয়টিও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।’

ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি কোরবানি ঈদকেন্দ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে অনেক মানুষের জীবন ও জীবিকা সংযুক্ত। পশু পালন, পশুর চামড়া রপ্তানিসহ ঈদ-অর্থনীতি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জীবনের পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের যে অবস্থান, তা এগিয়ে নিতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও আহ্বান জানান তিনি।

আরিফুল ইসলাম (বার্তা সম্পাদক)
          “দ্যা নিউ স্টার”