বাউফলে বিদ্যুতের ভূতুরে বিল আর লোড শেডিংয়ে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা

প্রকাশিত: ৯:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০
0Shares

এম.নাজিম উদ্দিন,পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর বাউফলে পল্লী বিদ্যুতের ভূতুরে বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শত শত গ্রাহক। দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও এর কোন সমাধান পাচ্ছেন না তারা। অপরদিকে চরম লোডশেডিংয়ের ফলে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বাউফল পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভূতুরে বিলের কথা অস্বীকার করলেও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা সমস্যা রয়েছে বলে জানান।

ভূতুরে বিল সম্পর্কে ভূক্তভোগি বেশ কয়েকজন গ্রাহক জানান, করোনা প্রার্দুভাবের পূর্বে তাদের মাসিক যে বিল করা হতো তার থেকে কয়েকগুণ বেশি বিল করা হয়েছে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে। ওই বিল সংশোধনের জন্য অফিসে গেলে পরবর্তী মাসে সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়ে হাতে পাওয়া বর্তমান বিল পরিশোধের জন্য বলা হয়। হাতে গোনা প্রভাবশালী দু’একজনের বিল সংশোধন করা হলেও সিংহভাগ গ্রাহক অতিরিক্ত বিল দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, নিয়ম অনুসারে আবাসিক গ্রাহকের ০১ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের বিল করা হয় ৪.১৯ টাকা এবং ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিল করা হয় ৫.৭২ টাকা হিসেবে। সে অনুযায়িই ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু তিন বা চার মাসের গড় বিলে একই সঙ্গে বেশি ইউনিট ধরে বিল করায় সেই টাকার ওপর ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে একজন গ্রাহককে অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে। এভাবে ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা এবং বড় শিল্প বা বাণিজ্যিক গ্রাহকদের হাজার হাজার টাকা বেশি বিল করা হয়েছে।

বাউফল পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র মিজানুর রহমান খোকন বলেন, স্বাভাবিকভাবে আমার বিদ্যুত বিল যা হয় গত তিন মাসে তার দ্বিগুন করা হয়েছে। এভাবে ভূতুরে বিল করায় আমি হতবাক হয়েছি। আমার যদি এই অবস্থা হয় তাহলে গ্রামের সাধারণ মানুষের দশা কি?

কাছিপাড়া ইউনিয়নের পাকডাল এসএম ফরিদ উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার বলেন, রিডিং না দেখেই ভূতুরে বিল করা হয়েছে।

৩ মাসে আমার বিল হয়েছে ১২ হাজার টাকা। অথচ আমার বাসায় প্রতিমাসে বিল হওয়ার কথা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের আওতায় ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে এবং ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। প্রতিমাসে গড়ে প্রায় চার কোটি টাকা বিদ্যুত বিল হয়। ভূতুরে বিল সম্পর্কে বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম বলেন, শতকরা ৯৫ ভাগ বিল ঠিক আছে। ৫ ভাগ বিল নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও সেগুলো সংশোধন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বিগত কয়েক মাস পর্যন্ত ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রায়শই লাইন মেরামত, ঝড়-বৃষ্টি এবং লো-ভোল্টেজসহ নানাবিধ কারণে ঘোষণা দিয়ে এবং ঘোষণা না দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকরা।
অপর একটি সূত্র জানায়, বরিশাল-পটুয়াখালী ১৩২ কেভি লাইনের উন্নয়ন চলছে। এছাড়া পটুয়াখালী উপকেন্দ্র থেকে বাউফলে আসা ৩৩ হাজার ভোল্টেজের কমন গ্রীড লাইনটি কাশিপুর এসে গলাচিপা ও বাউফলে দুই ভাগ হয়েছে। এখন বাউফলের জন্য ভিন্ন গ্রীড লাইনের কাজ চলছে। এই গ্রীড লাইনটির কাজ সম্পন্ন হলে বাউফলে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। এছাড়া বাউফলে ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমাদের সাব স্টেশনে ১০ ও ৫ মেগাওয়াটের দুটি ট্রান্সফরমার রয়েছে। ফলে চাহিদা মেটাতে কিছু লাইন বন্ধ করে সমন্বয় করতে হয়। এছাড়া বরিশাল-পটুয়াখালীর ৩৩ কেভি লাইনে অনেক সময় ভোল্টেজ নেমে ২৬/২৭ এ চলে আসে। এ সময় সাবস্টেশনের ট্রান্সফরমার বন্ধ রাখতে হয়। তা না হলে ট্রান্সফরমারের ক্ষতি হতে পারে। এ ধরণের কারণে অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

বাউফল পল্লী বিদ্যুতের উপ মহা ব্যবস্থাপক একে এম আজাদ বলেন, বরিশাল-পটুয়াখালী ১৩২ কেভি লাইন থেকে বাউফলের জন্য ৩৩ হাজার ভোল্টেজের একটি ভিন্ন গ্রীড লাইনের উপকেন্দ্র করার জন্য এক বছর আগে একটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে বাউফল ও দশমিনায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।