খবর প্রকাশের পর ডিসি’র আশ্বাস পেলেন শিকলবন্দি সেই আদিবাসী নারী

প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০
0Shares

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের নওকুচি গ্রামের মৃত স্বতেন্দ্র কোচের স্ত্রী ও পাতিশ্বরী কোচের মেয়ে। নিরপতি কোচ (৩৭) নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক আদিবাসী নারী এক যুগের অধিক সময় ধরে শিকলবন্দি অবস্থায় ছিলেন। এইমর্মে ‘একযুগ ধরে শিকলবন্দি আদিবাসী নারী’ শিরোনামে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ সহ বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর তা শেরপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনার কলি মাহবুব’র নজরে আসে।

পরে ডিসি আনার কলি মাহবুব’র নির্দেশে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জয়নাল আবেদীন নওকুচি গ্রামের সেই মানসিক ভারসাম্যহীন শিকলবন্দি নিরপতি কোচের বাড়িতে গিয়ে সার্বিক খোঁজখবর নেন। নিরপতি কোচের নামে দ্রুত প্রতিবন্ধী ভাতার আশ্বাস দেওয়াসহ তার চিকিৎসা ব্যায় ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে সরকারি অন্যান্য সহায়তা প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান ইউএনও রুবেল মাহমুদ।

জানা গেছে, বিশ বছর আগে সতেন্দ্র কোচের সাথে নিরপতি কোচের বিয়ে হয়। এক সন্তানের জননী হওয়ার পরে নিরপতি কোচ মানুষিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরেন এবং এক বছর আগে স্বামী সতেন্দ্র কোচ মারা যান। নিরপতি কোচের বৃদ্ধা মা পাতিশ্বরী কোচ বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। তাদের সহায়-সম্বল নেই বললেই চলে। মানুষিক ভারসাম্যহীন মেয়ের মুখে এক মুঠো খাবার তুলে দিতে বৃদ্ধা মা পাতিশ্বরী কোচকে ভিক্ষা করতে হচ্ছে। নিরপতি কোচ প্রায়ই বাড়ি থেকে চলে যান। তাই কোন উপায় অন্ত না পেয়ে পরিবারিক ভাবে তাকে শিকলবন্দি করে রাখ হয়। বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। অনাহারে-অর্ধাহারে তাদের দিন কাটে। প্রায় প্রদিতদিন তাদের ভাগ্যে একবেলা খাবার জুটলেও, জুটেনা আরেক বেলার খাবার।

নিরপতি কোচের বৃদ্ধা মা পাতিশ্বরী কোচ বলেন, মানুষিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সব শেষ করে ফেলেছেন। এখন চিকিৎসা করানোর মতো টাকা পয়সা তাদের হাতে নেই। তাই বাধ্য হয়ে মেয়েটিকে এক যুগের অধিক সময় ধরে শিকল বন্দী করে রাখতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তার মেয়ে মানুষিক প্রতিবন্ধী হওয়ার পরে একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন সুফল পাইনি। তবে এখন ডিসি স্যারের নজরে আসায় আশার আলো দেখছেন বলে তিনি জানান।