বাতাসেও ছড়ায় করোনাভাইরাস, স্বীকার করল ডব্লিউএইচও

প্রকাশিত: ৪:০৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০
0Shares

অবশেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্বীকার করেছে যে বাতাসে ভেসে থাকা ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। যেখানে মানুষের ভিড় বেশি, বন্ধ ঘর অথবা যেখানে বাতাস চলাচলের ভালো ব্যবস্থা নেই, সেসব জায়গায় বাতাসের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সম্প্রতি এমন কথা বলেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক কর্মকর্তা।

যদি এই পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় তাহলে আবদ্ধ জায়গায় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে। এর আগে বিশ্বের ২৩৯ জন বিজ্ঞানী এক খোলা চিঠিতে অভিযোগ করেছিল যে করোনা ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হবার বিষয়টিকে খাটো করে দেখিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলে আসছে যে হাঁচি এবং কাশির মাধ্যমে যেসব ক্ষুদ্র জলীয় কণা বের হয়, সেগুলোর মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়ায়। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই অবস্থানের সাথে একমত হতে পারছেন না ৩২টি দেশের ২৩৯জন বিজ্ঞানী। তারা বলছেন, মানুষের কথা বলা এবং শ্বাসপ্রশ্বাস নেবার পর ক্ষুদ্র কণা কয়েক ঘণ্টা বাতাসে ভেসে থাকে। এর মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

‘আমরা চাই করোনাভাইরাস বাতাসে ছড়ানোর বিষয়টিকে তারা স্বীকার করে নিক,’ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ইউনিভার্সিটির রসায়নবিদ জোসে জিমেনেজ, যিনি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বাতাসের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর তথ্য ও প্রমাণ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে এবং এজন্য আরও পর্যালোচনা দরকার। এদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে আমেরিকায়। দেশটিতে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ৩১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বহু অঙ্গরাজ্যে নতুন নতুন সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে এবং ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের হাসপাতালগুলোতে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউ’র সংকট দেখা দিয়েছে।

বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, আমেরিকায় সর্বশেষ আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ২০ হাজার ৪৮৩ জন। এ দিন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৩৯৯ জন। দেশটিতে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৯ জনের। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্বেগজনকভাবে প্রতিদিন করোনা সংক্রমণের ঘটনা বেড়েই চলেছে এবং দুই ডজনের বেশি অঙ্গরাজ্যে গত দুই সপ্তাহ ধরে এই অবস্থা চলছে। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, মার্কিন সরকার নোবেল করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মোটা দাগে ব্যর্থ হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই, মিসৌরি, মন্টানা, ওকলাহোমা এবং টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গতকাল আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে করনো সংক্রমণের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে টেক্সাস এবং ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে। এই দুটি অঙ্গ রাজ্যের প্রত্যেকটিতে একদিনে ১০ হাজারের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। এছাড়া, ২৪টির বেশি অঙ্গরাজ্যে উচ্চমাত্রায় সংক্রমণের ঘটনা দেখা গেছে। শুধু টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এ অবস্থায় কোথাও কোথাও মার্কিন জনগণকে করনোভাইরাস পরীক্ষার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও লোকজন করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করার জন্য রাতে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে।

আরিফুল ইসলাম (বার্তা সম্পাদক)
           “দ্যা নিউ স্টার”