এ মাসেই অনলাইন দাবা অলিম্পিয়াড

প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০
0Shares

বিশ্ব দাবার সবচেয়ে বড় আসর অলিম্পিয়াড এবার দাবাড়ুদের ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। করোনা মহামারীতে প্রায় ২০০ দেশের এ আসর এবার হচ্ছে অনলাইনে। ভিন্ন ফরম্যাটে আগামী ২২ জুলাই থেকেই এই টুর্নামেন্ট গড়াচ্ছে ভার্চুয়াল বোর্ডে। গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ, আব্দুল্লাহ আল রাকিব, জিয়াউর রহমানদের কাছে যা হতে যাচ্ছে সম্পূর্ণ এক নতুন অভিজ্ঞতা।

অনলাইনে ফরম্যাট আমূল বদলে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত অলিম্পিয়াডে দেশের শীর্ষ পাঁচ দাবাড়ু অংশ নিয়ে থাকেন ওপেন বিভাগে, মেয়েদের বিভাগেও তাই। কিন্তু অনলাইনে এবার একটি বিভাগ ছয়জনের, সেখানে অনূর্ধ্ব-২০ বছরের দুজন (ছেলে ও মেয়ে) এবং দু’জন মহিলা দাবাড়ুকে খেলানো বাধ্যতামূলক। সে হিসেবে বাংলাদেশের মাত্র দু’জন গ্র্যান্ডমাস্টার খেলার সুযোগ পাবেন। অবশ্য রিজার্ভে থেকে অন্যরাও বিভিন্ন রাউন্ডে ছয়জনের দলে জায়গা করে নিতে পারেন। সর্বশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের র‌্যাংকিং অনুযায়ী গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ ও রাকিব অগ্রাধিকার পাবেন।

জুনিয়র বিভাগে সুযোগ সর্বশেষ এশিয়ান জুনিয়র খেলা আন্তর্জাতিক মাস্টার ফাহাদ রহমান ও নোশিন আঞ্জুমের। মহিলা জাতীয় চ্যাম্পিয়ন রানী হামিদ ও শারমিন সুলতানাও দলে ডাক পাবেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলটা কেমন হচ্ছে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৮ জুলাই দাবা ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির প্রথম বৈঠক পর্যন্ত। সাধারণ সম্পাদক শাহাবউদ্দিন শামিম তেমনটাই জানিয়েছেন কাল, ‘এটা ভিন্ন মাধ্যম, ভিন্ন ফরম্যাট। র‌্যাংকিং অনুযায়ী দাবাড়ুদের একটা অগ্রাধিকার তো থাকবেই। তবু কেউ হয়তো অনলাইনে আগ্রহী না। সে ক্ষেত্রে অন্যরা সুযোগ পাবে।’

শামিম জানিয়েছেন অনলাইনে খেলার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির জন্য দাবাড়ুদের ৫০০ ডলার (জিএমদের ক্ষেত্রে ৭০০ ডলার) করে দেবেন তাঁরা। সভায় ঘরোয়া একটি অনলাইন টুর্নামেন্টের তারিখও চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন ফেডারেশন সম্পাদক। জিয়ার মতে অলিম্পিয়াডের আগে সেটা হলেই তাঁরা উপকৃত হবেন। ২২ জুলাই শুরু হওয়া টুর্নামেন্ট শেষ হবে অবশ্য ৩০ আগস্ট। কয়েকটি ধাপে এগোবে টুর্নামেন্ট।

র‌্যাংকিংয়ের একেবারে নিচের সারির দলগুলোকে শীর্ষ চল্লিশে ঢুকতেই পার হতে হবে চার ধাপ। শীর্ষ ২৫টি দল সেখানে সরাসরিই খেলবে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল হয়ে ফাইনাল। বাংলাদেশের খেলা শুরু হতে পারে তৃতীয় ধাপ থেকে, যেটি হবে ৫-৯ আগস্ট। অনলাইনে স্বাভাবিকভাবে র‌্যাপিড দাবা হবে, প্রতিটা গেম হবে ১৫ মিনিটের।

নিয়াজ মোরশেদ এই করোনার সময় ভীষণভাবে দাবাটা মিস করলেও অলিম্পিয়াডের মতো আসর খেলা কতটা উপভোগ্য হবে তা নিয়ে সন্দিহান, ‘১০-১৫ মিনিটের গেম আমি ভালোই খেলি। কিন্তু অনলাইনে অভ্যস্ত নই তেমন। স্বাভাবিক বোর্ডে খেলাটাই আমাকে বেশি টানে। তার পরও দেখি কী হয়!’

আরিফুল ইসলাম (বার্তা সম্পাদক)
          “দ্যা নিউ স্টার”