শেরপুরে এডিসি সার্বিক এহছানুল মামুনকে বিদায় সংবর্ধনা

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০
0Shares

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবিএম এহছানুল মামুন এর অন্যত্র বদলী জনিত কারনে তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলা প্রশাসন মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনার কলি মাহবুবের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ছোট পরিসরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবিএম এহছানুল মামুনকে উষ্ণ বিদায় সংবর্ধনা জানান।

এসময় স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) এটিএম জিয়াউল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের অনন্যান্য কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন তথ্যে ও সূত্র মতে, এবিএম এহছানুল মামুন স্যার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান অর্থ বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বরে তিনি শেরপুর জেলা প্রশাসন পরিবারের সদস্য হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন। তৎকালীন শেরপুর জেলা প্রশাসক ডক্টর মল্লিক আনোয়ার হোসেন স্যারের নেতৃত্বে অনন্য শেরপুর গড়ার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের একটি টিমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি। এর পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হিসাবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কর্মের মূল্যায়নে কর্মক্ষেত্রে সৎ, নিষ্ঠাবান, প্রত্যয়ী সরকারি কর্মচারী হিসেবে জেলা পর্যায়ে শুদ্ধাচার পুরস্কার-২০১৯ অর্জন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবিএম এহছানুল মামুন।

শেরপুর জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব এর কাছ থেকে বিদায় সংবর্ধনা নেওয়ার পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবিএম এহছানুল মামুন তাঁর ফেইসবুক টাইম লাইনে শেরপুরে চাকরি কালীন সময়কে তাঁর ‘অনন্য অভিজ্ঞতা’ হিসেবে স্বীকার করে একটি আবেগময় স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি হুবহু- “যাব যাব করে চরণ না সরে, ফিরে ফিরে চাই পিছে; পড় পড় জলে ভর ভর চোখ, শুধু চেয়ে থাকে নিচে।” সরকারি চাকুরী জীবনের অনিবার্য বাস্তবতা বদলি। চেনা কর্মস্থল, সহকর্মী পেছনে রেখে বিদায় নিয়ে হাঁটতে হয় নতুন পথে। এক কর্মজীবনে সম্মুখীন হতে হয় একাধিক বিদায়ের।

তারই ধারাবাহিকতায় আজ ০৯.০৭.২০২০ তারিখে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কে পিছনে রেখে চলে যাচ্ছি।  ০৭/১১/২০১৭ সালে শেরপুর জেলা প্রশাসন পরিবারের সদস্য হিসাবে যোগ দিয়েছিলাম। তৎকালীন জেলা প্রশাসক ডক্টর মলিক আনোয়ার স্যারের নেতৃত্বে একটি টিম হিসেবে কাজ করেছি অনন্য শেরপুর গড়ার লক্ষ্যে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শুরু করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে কাজ করার পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি। শেরপুর জেলার মান্যবর জেলা প্রশাসক জনাব আনার কলি মাহবুব স্যারের উষ্ণ বিদায় সংবর্ধনায় আজ সম্মানিত হলাম, আন্তরিক শুভেচ্ছায় আপ্লুুত হলাম। শেরপুর ছেড়ে চলে যাচ্ছি ভেবে খুব খারাপ লাগছে এই জন্য যে, এখানে প্রায় তিন বছরের কর্মকালে আমি সিনিয়র স্যারদের কাছ থেকে পেয়েছি অনেক, আন্তরিক চেষ্টা সত্বেও কতটুকু দিতে পেরেছি সেটা তাঁরাই মূল্যায়ন করবেন।

এ কাজ করার সময়কালকে ‘অনন্য অভিজ্ঞতা’ বলে অভিহিত করতে চাই। মান্যবর ডিসি জনাব আনার কলি মাহবুব স্যার আমাকে দিয়েছেন অসামান্য স্নেহ, কাজের সুবিবেচিত স্বাধীনতা আর অপার অনুপ্রেরণা। স্যার সব সময় কাজ শিখিয়েছেন হাতে কলমে, নির্দেশনা দিয়েছেন টু দ্যা পয়েন্ট এ। তিনি আমার কাজের উপর কোন আঁচড় পড়তে দেননি, নিজের ছোট ভাইয়ের মত আগলে রেখেছেন। ডিডিএলজি এটিএম জিয়াউল ইসলাম স্যার দিয়েছেন ভাতৃতূল্য দিকনির্দেশনা আর প্রতিটি সমস্যায় জুগিয়েছেন সমাধান করার সমূহ সাহস। জন কেনেডি জাম্বিল স্যার [সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), শেরপুর এবং বর্তমানে উপ-পরিচালক, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, ময়মনসিংহ] আমার জন্য ওকালতি করতে যেয়ে কতযে বকা খেয়েছেন তা কখনোই ভুলবার নয়; সদা হাস্যজ্জল অকৃত্রিম হাসিমাখা মুখ আর পরম স্নেহ দিয়ে সর্বদা কাজ করতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বন্ধুবর সৈয়দ এ জেড মোরশেদ আলী তার অকৃত্রিম বন্ধুত্ব এবং পান্ডিত্যপূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে কঠিন কাজ কে সহজে পরিণত করেছে, দুঃসময়ের নিঃস্বার্থ ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত। সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বৃন্দ যে অকান্ত পরিশ্রম করে জনসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করেছেন তার তুলনা হয় না।

কালেক্টরেটের স্নেহের জুনিয়র সহকর্মীগণ তাদের সামর্থ্য এর অধিক সহায়তা দিয়ে প্রতিটি কাজে সফলতা আনতে রেখেছেন অসামান্য অবদান। সকল শাখার প্রিয় সহকর্মীগণ তাদের নিষ্ঠা, প্রচেষ্টা,আন্তরিকতা, অধ্যবসায় আর পরিশ্রম দিয়ে আমাদের টিম স্পিরিটকে করেছেন সমৃদ্ধ। এই কর্মকালীন সময়ে বিশেষ করে শেরপুর জেলার সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, সুশীল সমাজ,  শিক্ষবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবক বৃন্দ এবং সর্বোপরি জনগণের অশেষ সহযোগিতা এবং আমার শুভাকাঙ্খীদের অনুপ্রেরণা আমার দায়িত্ব পালনে সহায়ক হয়েছে। করোনা মহামারীর এই সংকটময় সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় বলতে না পারায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এই দুর্যোগের সময়ে আপনারা সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন এই দোয়া রইল। আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যদের জন্য আপনাদের সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।  আজ এখানে রেখে যাচ্ছি আমার ভালোবাসার বীজ, প্রাণের খনিজ। চিরজীবন সে ভালোবাসা অটুট থাকুক এমনি করে অমরত্বের ফসিল হয়ে। “ভালো থেকো শেরপুর, প্রাণের শেরপুর, অনন্য শেরপুর, বিদায় শেরপুর।”