নকলার ৩ মেধাবী ৩৮তম ব্যাচে বিসিএস ক্যাডার হলেন

প্রকাশিত: ১২:০১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০
0Shares

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুরের নকলায় মধ্যবিত্ত পরিবারের ৩ মেধাবী বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন। ৩৮তম বিসিএস’র চূড়ান্ত ফল চলতি বছরের ৩০ জুন (মঙ্গলবার) প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এ ফলাফলে শেরপুর জেলার মোট ২৩ জন চুড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্ত হন। এতে শেরপুর সদর উপজেলার ১১ জন, শ্রীবরদী উপজেলার ৫ জন, নকলা ও ঝিনাইগাতী উপজেলার ৩ জন করে এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার একজন সুপারিশ প্রাপ্ত হন। নকলা উপজেলার চূড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্তরা হলেন- মুইদুজ্জামান (প্রভাষক পদার্থ), আসাদুজ্জামান (প্রাণি সম্পদ) ও আসাদুল্লাহ শরীফ (রেলওয়ে প্রকৌশল)।

মুইদুজ্জামান:
সে উপজেলার নকলা পৌরসভার বাজারদী এলাকার কৃষক সুরুজ্জামান ও গৃহিনী মনোয়ারা বেগমের ২ ছেলে ও ২ মেয়ে সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান। ২ ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট। মুইদুজ্জামান ২০০৫ সালে নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৩, নকলা হাজী জালমামুদ কলেজ থেকে ২০০৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০০৮-০৯ সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি বিসিএস-এ দ্বিতীয় বারের চেষ্টায় ৩৮তম বিসিএস ব্যাচে চূড়ান্ত ভাবে সফলতার মুখ দেখেন। পদার্থ বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে সুপারিশ পাওয়ায় তিনি বেশ খুশি। তিনি পদার্থ বিষয়ে সারা দেশের ৪৬ টি পদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। তিনি বলেন শিক্ষকতা পেশাটি একটি মহান পেশা। তিনি বর্তমানে উপজেলার গনপদ্দী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। এই পেশার মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলার সুযোগ থাকে। তিনি যেন জাতি গড়ার একজন কারিগর তথা আদর্শ শিক্ষক হিসেবে জাতির কাছে পরিচিতি লাভ করতে পারেন এর জন্য তারঁ পরিবার পরিজন ও মুইদুজ্জামান নিজে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

আসাদুজ্জামান:
সে উপজেলার নকলা পৌরসভার ইশিবপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া ও গৃহিনী আনোয়ারা বেগমের ৩ ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান। ভাইয়ের মধ্যে সে সকলের ছোট। আসাদুজ্জামান ২০০৬ সালে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যানিকেতন থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০০৮-০৯ সেশনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি ৩৭তম বিসিএস-এ অংশ নিয়ে নন-কেডার হিসেবে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে পূবালী ব্যাংকে সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। ৩৮তম বিসিএস-এ দ্বিতীয় বারের মতো প্রাণিসম্পদে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্ত হন। তিনি আরও জানান ৪০তম বিসিএস-এ লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন, এই ব্যাচে তিনি ভালো ফলাফল করবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। এর জন্য আসাদুজ্জামান ও তারঁ পরিবার পরিজন সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

আসাদুল্লাহ শরীফ:
সে নকলা উপজেলার গনপদ্দী ইউনিয়নের বাড়ইকান্দি এলাকার (বর্তমান ঠিকানা নকলা পৌরসভার গ্রীণ রোড এলাকা) অবসর প্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আফাজ উদ্দিন ও গৃহিনী লুৎফুন নাহার এর ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সন্তান। আসাদুল্লাহ শরীফ ২০১০ সালে নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে ২০১২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এর পর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি (কুয়েট) বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি ৩৮তম বিসিএস-এ রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্ত হন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক এর সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন, এর আগে তিনি বেসিক ব্যাংকে কিছুদিন চাকরি করেছেন বলে তথ্য সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস-এ সারা দেশের ২ হাজার ২০৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সুপারিশ পাওয়া ক্যাডারের মধ্যে সাধারণ ৬১৩, সহকারী সার্জন ২২০, ডেন্টাল সার্জন ৭১, বিভিন্ন টেকনিক্যাল ক্যাডারে ৫৩২ এবং শিক্ষায় ৭৬৮ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৩৮তম বিসিএস এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়। এ পরীক্ষায় সারাদেশের ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষার প্রায় ২ মাস পরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়। পরে ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট ৩৮তম বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষায় ১৪ হাজার ৫৪৬ জন অংশ নিয়ে ৯ হাজার ৮৬২ জন কৃতকার্য হয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁরা মৌখিক পরীক্ষা শেষ করেন। অবশেষে চলতি বছরের ৩০ জুন চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এ ফলাফলে শেরপুরের ২৩ জন চুড়ান্ত ভাবে সুপারিশ প্রাপ্ত হন, এর মধ্যে নকলা উপজেলার ৩ মেধাবী রয়েছেন।