বাউফলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান

প্রকাশিত: ১০:১১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০
0Shares

এম.নাজিম উদ্দিন,পটুয়াখালী:
পটুয়াখালী বাউফলের বগা ইউনিয়নে ১০ ও ১১ বছরের দুই শিশুকে অপহরণ করে বলাৎকার করার অভিযোগে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে বাউফল থানা পুলিশ। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিহাব উদ্দিনের আদালতে ওই দুই শিশুর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে। ওই দুই শিশুর জবানবন্দী শেষে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে। তবে বলাৎকারের ঘটনা সাজানো বলে দাবি করেছেন আটক বৃদ্ধের স্বজনরা।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার বগা ইউনিয়নের বানাজোরা গ্রামের কালাম মৃধা (৫৫) নামের এক ব্যক্তি বগা বন্দরের এক শিশুকে (১০) গত শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে বগা ডা. ইয়াকুব আলী শরীফ ডিগ্রী কলেজ এলাকায় নিয়ে বলাৎকার করেন। একই ব্যাক্তি শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বগা বাজারের ব্রিজ এলাকা থেকে অপর এক শিশুকে (১১) অপহরণ করে বাজারের মসজিদ এলাকায় নিয়ে বলাৎকার করেন।
এই ঘটনায় আদম আলী মৃধা নামে এক শিশুর পিতা শনিবার রাতে ( ১১ জুলাই) বাউফল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭ এর (৩০) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। (মামলাটি নম্বর ১০, তারিখ ১২/৭/২০২০ইং) ওই মামলায় বগা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মহিবুল্লাহ আসামি কালাম মৃধাকে গ্রেপ্তার করে পটুয়াখালী আদালতে প্রেরণ করেন। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠান। এদিকে এ ঘটনা সাজানো বলে দাবি করেন মামলার বাদি আদম আলী মৃধা এবং আসামি কালাম মৃধার স্ত্রী আলেকা বেগম ও তার ছেলে আনিচুর রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে তারা বাউফলে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন।
মামলার বাদি আদম আলী মৃধা বলেন, বগা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মহিবুল্লাহ শনিবার রাতে তাকে বাড়ি থেকে তদন্ত কেন্দ্রে ডেকে নিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে জানতে পারেন তার ছেলেকে বলৎকারের অভিযোগে জনৈক কালাম মৃধার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে বাদি করা হয়েছে। তার নাবালক ছেলে তাকে জানিয়েছেন এ ধরণের কোন ঘটনা তার সাথে ঘটেনি। তার ছেলেকে ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।
শিশুটির মা মানোয়ারা বেগম বলেন, সোমবার রাতে তাদেরকে খবর দিয়ে বাউফল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তারা থানার ওসিকে ঘটনাটি মিথ্যা বলে জানিয়েছেন। কিন্তু ওসি তাদের কথা কর্ণপাত করেননি। ববং তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন। এক পর্যায়ে ওসি তার ছেলেকে থানায় রেখে তাদেরকে বাড়ি চলে যেতে বলেন। রাত ১টার দিকে তারা বাড়ি চলে আসেন।
আসামি কালাম মৃধার স্ত্রী আলেকা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামীর বয়স ৬৫ বছরের বেশী। তিনি বগা বন্দরের জেলা পরিষদের ডাকাবংলোর সামনে ছোট একটি দোকন দিয়ে তবসি, জায়নামাজ ও টুপি বিক্রি করেন। ওই ডাকবাংলোয় বগা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মহিবুল্লাহ থাকেন। তিনি ডাকবাংলোর সামনে থেকে তার  স্বামীকে দোকনটি সরিয়ে নেয়ার জন্য বলেন। এতে তিনি রাজী না হওয়ায় ৪-৫ দিন আগে তার স্বামীকে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ধমক দেন এবং তার সাথে তর্কাতর্কি করেন। এরপর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।
আসামি কালাম মৃধার ছেলে আনিচুর রহমান অভিযোগ করেন, বগা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মহিবুল্লাহ পরিকল্পিত ভাবে তার বাবাকে ফাঁসিয়েছেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘটনের জন্য পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বগা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মহিবুল্লাহ বলেন, কোন বিরোধের জের ধরে নয়, বরং সুনিদৃষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে কালাম মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১০ ও ১১ বছরের দুই শিশুকে অপহরণ করে বলৎকারের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমিও শুনেছি মামলার বাদি এখন ঘটনাটি অস্বীকার করছেন। স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির চাপে তিনি (বাদি) এ ঘটনা অস্বীকার করছেন।
বাউফল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান এই প্রতিনিধির কাছে বলেন,বলাৎকারের শিকার ওই দুই শিশু থানায় উপস্থিত হয়ে তার কাছেও ঘটনার বর্ননা দিয়েছেন। ওই দুই শিশুর বক্তব্যের ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে। বাউফল উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, আমার বাড়ি বগা বন্দরে। ঘটনাটিও বগা বন্দরের। কালাম মৃধা ডাক বাংলোর সামনে ছোটখাটো একটি ব্যবসা করেন। আমি তাকে চিনি। এ ঘটনার পর তার স্ত্রী ও ছেলে আমার কাছে এসেছিলেন। তারা আমাকে বিস্তারিত বলেছেন। আমি বিষয়টি নিয়ে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলেছি। ঘটনাটি তিনি তদন্ত করে দেখবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। তবে কালাম মৃধারমত একজন বৃদ্ধ মানুষ এঘটনা ঘটাতে পারে বলে আমার মনে হয়না।