বাউফলে বিরোধ মিমাংসায় জনপ্রিয়তা পেয়েছে গ্রাম আদালত

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২০
0Shares

এম.নাজিম উদ্দিন,পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর বাউফলের গ্রাম পর্যায়ে বিরোধ মিমাংসায় জনপ্রিয়তা পেয়েছে গ্রাম আদালত। স্বল্প খরচে দ্রুততম সময়ে মামলা নিস্পত্তি হওয়ায় এ আদালতের প্রতি মানুষের গ্রহণযোগ্যতা ও আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। উপজেলার নদী বেষ্ঠিত ইউনিয়ন চন্দ্রদ্বীপের সাধারন মানুষের আস্থা বাড়ছে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের উপর। জমিজমা নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক কলোহল, দুই পক্ষের মারামারিসহ বিভিন্ন দেওয়ানি ও ফৌজদারি অপরাধের সুষ্ঠ বিচার পাওয়া যায় গ্রাম আদালতে।
তথ্য মতে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে ২৬১টি মামলা সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব মামলা নিষ্পত্তির পরে উদ্ধার হয়েছে ৫১৭শতাংশ জমি। যার মূল্য ৩৬লাখ ৭৭হাজার টাকা। এছাড়াও ১৪লাখ ৫১হাজার ৮২০টাকার উদ্ধার হয়েছে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে। চলমান রয়েছে ৬টি মামলা। স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টু চৌকিদার, মতিন মাঝি, শান্তনা বেগম, বাবুল শরীফ ও আলাউদ্দিন পালোয়ান জানান, আমাদের জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ ছিল। গ্রাম আদালতে মামলা করার পর সুষ্ঠু বিচার পেয়েছি। গ্রাম আদালতের বিচার কার্যক্রমে আমরা খুশি।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন গ্রাম আদালত সহকারি মো. মনির হোসেন জানান, ফৌজদারি মামলায় ১০টাকা ও দেওয়ানি মামলায় ২০ টাকা ফি দিয়েই আবেদন করতে পারে সাধারন মানুষ। এখানে ৭৫হাজার টাকা মূল্যের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। বিচার প্রার্থীদের কোন উকিল খরচ বহন করতে হয় না।

মনির আরো জানায়, অত্র ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক আলকাছ মোল্লার বিচার কার্যের উপর এই অঞ্চলের মানুষের আস্থা রয়েছে। তিনি উভয় পক্ষে দুইজন করে মানিত সালিশের উপস্থিতিতে রায় প্রদান করেন। খোজ নিয়ে জানা যায়, শুধু চন্দ্রদ্বীপ নয় উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নেই চলছে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম। এর মাধ্যমে সাধারন মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছেন।
বাউফল উপজেলা গ্রাম আদালতের সমন্বয়কারী আফরোজা আক্তার শিউলী বলেন, ‘ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সাধারন মানুষ ঘরে বসে সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ সঠিক রায় প্রদান করে থাকেন। মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন না। গ্রাম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কোন সুযোগ নেই। দিনদিন গ্রাম আদালতের উপর মানুষের আস্থা বাড়ছে।