বাউফলে নবনির্মিত ব্রিজ এলাকাবাসীর গলার কাটা

প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০
0Shares

এম.নাজিম উদ্দিন,পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর বাউফলে নব নির্মিত একটি ব্রিজ এলাকা¦বাসীর গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৯-২০২০ইং অর্থ বছরে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৩৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সূর্যমণি ইউনিয়নের ইন্দ্রকুল গ্রামের হাসেম মাষ্টার বাড়ি সংলগ্ন কালিশুরী-বগা খালের উপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটি কনকদিয়া ও সূর্যমণি ইউনিয়নের সংযোগ স্থাপন করেছে। কালিশুরী-বগা খাল দিয়ে এক সময় লঞ্চ ও জাহাজ চলাচল করতো। বর্তমানে নাব্যতা সংকটের কারনে নৌকা ও ট্রলারসহ ছোট নৌযান চলাচল করে।
রবিবার সরেজমিন পরিদর্শনকালে জানা যায়,ওয়াটার লেভেল ঠিক না রেখে ব্রিজটি নির্মাণ করায় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় ওয়াটার লেভেল থেকে মাত্র ২ ফুট উচ্চতা থাকায় কোন নৌযান চলাচল করতে পারছে না। এছাড়াও ৬০ ফুট প্রস্থ্যের খালে ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যরে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ নবনির্মিত ওই ব্রিজটির পাশে সঠিক উচ্চতার একটি আয়রন ব্রিজ ছিল। ওই আয়রন ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ায় নতুন আরেকটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু অপরিকল্পিত ভাবে নতুন ওই ব্রিজ নির্মাণ করায় উপকারের চেয়ে অপকারই বেশী হল। কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবদুল আজিজ বলেন, বগা- কালিশুরী খালের উপর অন্তত ৭টি ব্রিজ রয়েছে। প্রতিটি ব্রিজের নীচ দিয়ে নৌযান চলাচল করতে পারে। এই ব্রিজটি নির্মাণ করায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। স্থানীয় কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ব্রিজটি নির্মাণ করায় সরকারের অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই হয়নি। বরং ব্রিজটি এখন কালিশুরী, কনকদিয়া, কাছিপাড়া ও বগা ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য গলার কাটা হয়ে গেছে। কনকদিয়া বাজারের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ী আবুল কালাম আকন বলেন, এই খাল দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ইট বালুসহ নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করেছি। ব্রিজটি নির্মাণ করার পর সব বন্ধ হয়ে গেল। এখন থেকে বেশী খরচ দিয়ে সড়ক পথে মালামাল পরিবহন করতে হবে। উত্তর কনকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রেজাউল করিম ও কনকদিয়া স্যার সলিমুল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিত বিষয়ের শিক্ষক আবদুস ছালাম বলেন, অপরিকল্পিতভাবে এখানে ব্রিজ নির্মাণ করায় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে কৃষকরা খাল দিয়ে ফসল ও বীজ পরিবহনের ক্ষেত্রে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হবেন।
এ বিষয় জানার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজিব বিশ্বাসের কাছে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বাউফলের উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।