মোংলায় এক হিন্দু স্কুল শিক্ষিকা ধর্ম ত্যাগ করে হলেন মুসলমান

প্রকাশিত: ১১:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০
0Shares

 মোঃসোলায়মান শেখ বিশেষ প্রতিবেদক :মোংলা বাগেরহাট মোংলায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগকরে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক স্কুল শিক্ষিকা শর্মিষ্ঠা মিত্র। বর্তমানে তার নাম রাখা হয়েছে মোসাঃসেজুতি বেগম,হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হওয়ার কারনে তার পূর্বের স্বামী তাকে সন্মান হানী করছে এমন অভিযোগ করেছেন নব মুসলিম মহিলা সেজুতি বেগম। এ সম্পর্কে সেজুতি বেগম জানান স্কুল জীবন থেকেই মুসলিম ধর্মের প্রতি আমার দুর্বলতা কাজ করতো, আমার কাছে মুসলমান ধর্মের সকল নিয়ম কানুন আচার আচরণ ভালো লাগতো, কিন্তু আমি হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহন করায় তখন মুসলমান ইচ্ছা থাকলেও সমাজের কথা ভেবে তা কখনো বাস্তবায়ন করতে পারি নাই। ২০০৮ সালে আমার মোংলার ব্রাম্মনমেঠ গ্রামের সুশান্ত’র সাথে বিয়ে হয়,স্বামীর সংসারে মোটামুটি ভালোই চলছিলো আমার দাম্পত্য জীবন, কিন্তু কিছুদিন পর হঠাৎ স্বামী সুশান্ত আমার সাথে বিভিন্ন অযুহাতে খারাপ ব্যবহার শুরু করে, দিন দিন তার খারাপ ব্যাবহারের মাত্রা বেড়ে যেতে থাকে,সে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করা ও শুরু করে দেয়, আমি তখন গর্ভবতী হওয়ায় অনাগত সন্তানের কথা ভেবে সব নির্যাতন মেনে নিয়ে সংসার করতে থাকি। এরই মধ্যে আমাদের কোল জুড়ে আসে একটি পুত্র সন্তান, এই সন্তানের মুখের দিক তাকিয়ে ভেবেছিলাম হয়তো আমার স্বামী ভালো হয়ে যাবে, কিন্তু না তা হলো না উল্টো বেড়ে গেলে নির্যাতন এর মাত্রা, আমি একজন স্কুল শিক্ষিকা তাই সমাজের কথা ভেবে নীরবে সব সহ্য করে যেতাম। সবকিছু স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল হঠাৎ একদিন আমি জানতে পারলাম আমার উপর নির্যাতন এর রহস্য,জানলাম আমার স্বামী অন্য এক মেয়ের সাথে পরকীয়ায় আসক্ত,প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না,পরে যখন দেখলাম ঘটনা আসলেই সত্য তখন আমি রাগ করে আমার বাবার বাড়ি চলে যাই,কিছুদিন বাবার বাড়ি থাকার পর আমার স্বামী সুশান্ত আমার বাবার বাড়ী আসে এবং আমার কাছে তার পূর্বের কৃতকর্মের জন্য ভূল স্বীকার করে, আমিও সন্তানের মুখের দিক তাকিয়ে পিছনের কথা ভূলে গিয়ে ওর কথায় রাজি হয়ে আবার স্বামীর বাড়ি ফিরে আসি, কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও আমাকে মানুষিক ভাবে নির্যাতন শুরু করে আমার স্বামী সুশান্ত,আমার চাকরির বেতনের টাকা পর্যন্ত নিয়ে যেত সে,এবং টাকা দিতে না চাইলে খারাপ ব্যাবহার করতো, তারপরও আমি আমার সন্তানের কথা ভেবে সকল যন্ত্রণা সইতে থাকি, একসময় আমি আর সইতে পারছিলাম না, তখন আমি তাকে সেচ্ছায় কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স দেই,এরপর আমি সেচ্ছায় কোর্টের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করি,কারন পূর্বে থেকেই আমার ইসলাম ধর্মের প্রতি আলাদা একটা টান ছিলো,মুসলমান ধর্ম পালনের বেশ কিছুদিন পর আমি মুসলমান ধর্মের নিয়ম রীতি অনুযায়ী মুসলমান একটি ছেলেকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করি,ভালোই কাটছে আমার বর্তমান সময়,এটা সহ্য করতে পারছে না আমার পূর্বের স্বামী সুশান্ত, সে এখন বিভিন্ন ভাবে সমাজের কাছে আমাকে হেয় করার চেস্টা করছে,আমার নামে নানান রকমের খারাপ কথা রটাচ্ছে, আমি এখন তার কারনে সমাজের কাছে দোষী হয়ে উঠেছি। সমাজের কাছে আমার সন্মান হানি করছে আমার পূর্বের স্বামী সুশান্ত,আমার মুসলিম স্বামীকে এখন আমি অনেই সুখে শান্তিতে আছি।