বন্ধুদের ঠাট্টাকে নিজের গায়ে জড়িয়ে কথা কাটাকাটির পরে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা!

প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০
0Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শেরপুরের নকলায় বন্ধুদের ঠাট্টাকে নাবুঝে নিজের গায়ে জড়িয়ে কথাকাটি, অত:পর থানায় মাললা। মিথ্যা ও সাজানো মামলার ভয়ে বাড়ি ছাড়া নির্দোষ বিবাদী ও দিশেহারা বিবাদীর পরিবারের খেটে খাওয়া দিনমজুর অশিক্ষিত অভিভাবকগন। তবে আদালতে সঠিক সাক্ষ প্রমানে ফেঁসে যেতে পারেন কুমরামর্শ গ্রহণকারী বাদী (ভিকটিমের বাবা) ও সাজানো ভিকটিম নিজে।

জানা গেছে, ১ মার্চ রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভূরদী এলাকায় হারেজ আলীর চা-পানের দোকানের সামনে বসে নয়ানী পাড়ার মুন্তাজ আলীর ছেলে জুয়েল, হারেজ আলীর ছেলে আল আমিন ও মোশারফের ছেলে রেজাউল হক বসে গল্প গুজব করার এক পর্যায়ে আল আমিনের গালে কালো দাগ দেখে জুয়েল বলে ওঠে তোমার গালে কি হয়েছে? ঠিক এই মুহুর্তে বাদী চাঁন মিয়ার মেয়ে মরিয়ম আক্তার তাদের পিছন দিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলো, যা কেউ খেয়াল করেনি। কিন্তু বন্ধুদের গল্প গুজবকে নিজের গায়ে জড়িয়ে নেয় এবং স্কুলে গিয়ে একই স্কুলে পড়–য়া জুয়েলের ছোট বোনকে সকলের সামনে গালাগালি করে। স্কুল ছুটি হলে জুয়েলের বোন বাড়িতে এসে তার মা, বড় বোন ও বড় ভাই জুয়েলের কাছে বিষয়টি জানতে চায়। কিন্তু তারাও বিষয়টি পুরোপুরি অনুমান করতে পারেনি। এর পরের দিন সকালে মরিয়ম আক্তার বিচারের নামে জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে তর্কাতর্কি শুরু করে। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে বাড়ির সকলকে অকথ্য ভাষায় গালাগলি শুরু করলে বাড়ির মান সম্মানের ভয়ে তাকে বুঝিয়ে এবং ছেলে ও তার বন্ধুদের পক্ষে ভুল স্বীকার করে মরিয়মকে তাদের বাড়ি থেকে বেড় করে দেয়। পরে স্থানীয়রা পরষ্পরের ভুল ভেঙ্গে দিয়ে মরিয়মকে স্কুলে পাঠিয়ে দেন। মরিয়ম স্কুলে যাওয়ার পথে সালাউদ্দিন মার্কেট নামক স্থানে পৌঁছলে বরাবরের ন্যায় অজ্ঞাত রোগের কারনে সে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায়। সেখানে উপস্থিত থাকা বিবাদী রেজাউলের বাবা মোশারফসহ দুইজন মরিয়মের মাথায় পানি ঢেলে স্কুলে পাঠিয়ে দেন। পরে বিষয়টিকে পুঁজি করে অন্যের কুপরামর্শে ২ মার্চ মরিয়মের বাবা নকলা থানায় জুয়েল মিয়া, রেজাউল হক, আল আমিন ও আলমগীর হোসেনকে (৪ জন) আসামী করে মামলা করেন। মামলা নং-২ (জিআর ৫৬/২০)।

এ মামলা করার কয়েকদিন পরে মামলার তদন্তের স্বার্থে মরিয়মকে থানায় তলব করলে নকলা তানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’র কক্ষেও সে অজ্ঞান হয়ে যায়। অজ্ঞানের বিষয় এবং মেয়ে ও তার অভিভাবকের কথাবার্তায় সকলেই বুঝে যান যে মামলাটি সাজানো। তাই ঘটনার কিছুদিন পরেই মেয়ে আবার হঠাৎ করেই বলা শুরু করে তাকে নাকি কয়েকজন ছেলে ধরে নিতে এসেছিলো, এমনকি বিবাদীদের মতোই নাকি তার কাছে মনে হয়েছে; যা ন্যাহাৎই বানোয়াটি করে সাজানো বিবাদীদের হয়রানী করার একটি রাস্তা ছিলো বলে অনেকে জানান। এলাকার সকলেই মামলাটিকে সাজানো এবং মিথ্যা মামলার বাদীদের উল্টা সাজা হয়, এমন কথা বলাবলি করলে বাদী পক্ষ লাখী ও সোহাগসহ কয়েকজনকে দিয়ে মোটা অংকের বিনিময়ে আপোস হওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে বিবাদী ও বিবাদীর পরিবারের খেটে খাওয়া দিনমজুর অভিভাবকগন পড়েছেন মহাবিপাকে। এদিকে নির্দোশ খেটে খাওয়া অশিক্ষিত লোক গুলো পুলিশে ধরে নেওয়ার ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানা গেছে। এমতাবস্থায় এই হয়রানী ও সাজানো মামলা থেকে মুক্তি চায় নির্দোষ বিবাদী ও দিশেহারা বিবাদীর পরিবারের খেটে খাওয়া দিনমজুর অশিক্ষিত অভিভাবকগন।

উল্লেখ্য যে, বাদীর অভিযোগের তথ্য এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ২২ ধারা অনুযায়ী আদালতে লিপিবদ্ধকৃত ভিকটিম মরিয়মের দেওয়া জবানবন্দির মধ্যে ব্যপক পার্থক রয়েছে। তাছাড়া জুয়েলকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ১০/৩০ ধারায়, রেজাউল হককে ৩২৩ ধারায় ও আল আমিনকে কিশোর অপরাধী হিসেবে মামলায় অভিযুক্ত করাসহ অপর আসামী আলমগীর হোসেন নিরাপরাধ হিসেবে পুলিশি তদন্তে বেড়িয়ে আসে। তাছাড়া মামলায় উল্লেখ করা অধিকাংশ স্বাক্ষীগনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদেরকে যে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে এটা তারা জানেন না। বিষয়টি তাদেরকে খোলামেলা ভাবে শুনালে বা বললে তারা জানান, এটা সঠিত তথ্য নহে। ভুল বুঝাবুঝির জন্য কারো সাথে তর্কতর্কি করা মানেই নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মারামরি করা নহে। তারা বলেন, মামলার সাক্ষী দেওয়ার আগে আমাদের সাথে কথা বলা উচিত ছিলো। এখন আদালত আমাদের তলব করার পরে সাক্ষী দিতে না গেলে হয়তোবা আদালত অবমাননা গণ্য হবে। তা না হলে এমন মামলার সাক্ষী দিতে যাবে না বলে তারা জানান। তবে সাজানো মামলা থেকে নির্দোষ বিবাদী ও দিশেহারা বিবাদীর পরিবারের খেটে খাওয়া দিনমজুর অশিক্ষিত পরিবারের সদস্যদের মুক্তি দেওয়া উচিত বলে অনেকে জানান। পাশাপাশি কুমরামর্শ গ্রহণকারী বাদীকে আইনের আওতায় আনাসহ সাজানো অবুঝ ভিকটিমকে হুশিয়ারি করে দেওয়া উচিত বলে অনেকের দাবী।