অনলাইন ক্লাসে আগ্রহ বাড়ছে জবি শিক্ষার্থীদের

প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০
0Shares
ইসরাফিল হোসাইন, জবিঃ
অনলাইন ক্লাসে আগ্রহ বাড়ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে। যদিও প্রথমাবস্থায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিল। উপস্থিতির হার প্রায়ই ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ।
বিশ্ব ব্যাপি করোনার প্রভাব বাংলাদেশও প্রকটাকার ধারণ করেছে। করোনা প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও  ইউজিসির সিদ্ধান্ত অনু্যায়ি গত ১৭ মার্চ থেকে বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যার ফলে  শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়। অনেক শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে পড়াশোনা করলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার মনোভাব তৈরি করতে এবং তাদেরকে পড়াশোনার মধ্যে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাশাসন অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১ (এক) সপ্তাহের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও ইনস্টিটিউট অনলাইন ক্লাস শুরু করবে। ক্লাসের ভিডিও ইউটিউব ও ফেইসবুকে আপলোড করতে হবে যেন শিক্ষার্থী যেকোনো সময় তা দেখতে পারে।
জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল বিভাগ অনলাইনে ক্লাস শুরু করে। প্রথমাবস্থায় অনলাইন ক্লাস শিক্ষার্থীদের মাঝে তেমন সাড়া না পেলেও দিনদিন জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। ক্লাসে উপস্থিতির হারও স্বাভাবিক ক্লাসের মতই। ক্যাম্পাস খোলা থাকাকালিন সময়ে শিক্ষার্থীরা যেমন ক্লাসে উপস্থিত থাকে ঠিক তেমনি অনলাইন ক্লাসেও উপস্থিত থাকছে। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতির হার স্বাভাবিক ক্লাসের তুলনায় বেশি। শিক্ষার্থীরা বলছেন, অনলাইনে ক্লাস অভ্যস্ত না থাকায় প্রাথমিক দিকে একটু সমস্যা হয়েছে। কিন্তু দুই একটা ক্লাস করেই শিক্ষার্থীরা অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আর সে কারণেই দিনদিন অনলাইন ক্লাস জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
অনলাইন ক্লাস জনপ্রিয় হওয়ার কারণ সম্পর্কে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বারিউল ইসলাম বলেন, স্বাভাবিক ক্লাস করতে হলে আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় যেতে হয়। এজন্য অনেক সময় ব্যয় হয়। আবার তার জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়। কিন্তু অনলাইন ক্লাসে যাতায়াতের কোন সমস্যা নেই এবং প্রস্তুতির সময় লাগেনা। নিজের ঘরে বসেই ক্লাস করতে পারছি।
ক্লাসে উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের তিনটা গ্রুপ রয়েছে।  প্রতি গ্রুপে ২৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে প্রতি ক্লাসে প্রায় ২০ থেকে ২২ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। দেখা যায় স্বাভাবিক ক্লাসেও এতো শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে না।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাহীয়া বলেন, আমাদের বিভাগে অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতির হার ভালো এবং ক্লাস করে ভালই লাগছে। ক্লাস শেষে শিক্ষকগণ সে ক্লাসের ভিডিও দিয়ে দেন। যেন শিক্ষার্থীরা যে কোন সময় সেখান থেকে উপকৃত হতে পারেন।
তবে কিছু বিভাগ অডিও বা ভিডিও দিচ্ছেন। তার কারণ হচ্ছে অনলাইন ক্লাসে যেমন শিক্ষার্থীরা অনাভিজ্ঞ ঠিক তেমনি শিক্ষকরাও অনাভিজ্ঞ। সে কারণেই  একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে খুব দ্রুতই সকল বিভাগ অনলাইন ক্লাসের অডিও বা ভিডিও প্রকাশ করবে। অডিও বা ভিডিও প্রকাশ না করার আরেকটা কারণ হচ্ছ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। কেননা অডিও বা ভিডিও প্রকাশ করলে এখন যেমন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত হচ্ছে তখন এমন উপস্থিতি হবে না, উপস্থিতির হার কমে যাবে।
লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আসমা বিনতে ইকবাল বলেন, অনলাইন ক্লাস দিনদিন শিক্ষার্থীদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রাথমিক অবস্থায় একটু সমস্যা হলেও শিক্ষার্থীরা তা কাটিয়ে উঠেছে। বর্তমানে  ক্লাসে  উপস্থিতির হারও ৭০-৮০ শতাংশ। যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক ভাল। শিক্ষার্থীদের এমন একটা প্লাটফর্ম তৈরি করে দেয়ায় শিক্ষামন্ত্রী, জবি উপাচার্য ও সকল শিক্ষকদের (যারা এ কাজের সাথে সম্পৃক্ত) প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আবদুল্লাহ বলেন, সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন যে তারা অতি দ্রুত অনলাইন ক্লাসের সাথে নিজেদেরকে মানিয়ে নিয়েছে। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নেয়া পাশাপাশি তাদের এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও জানা যায়।