সুনামগঞ্জে ফের বাড়ছে হাওরের পানি ডুবছে ঘর বাড়ি

প্রকাশিত: ৯:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০
0Shares

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সুরমা নদীর পানি বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জেলা শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ছে হাওর এলাকায়। এতে আবারও প্লাবিত হচ্ছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, গত শনিবার থেকে আবার সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। একই সময়ে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিসহ আশপাশের এলাকায়। এ কারণে পাহাড়ি ঢল নামছে। এতে জেলার প্রধান নদী সুরমাসহ অন্যান্য নদ-নদী ও হাওরে পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হয়েছে ১২০ মিলিমিটার। একই সময়ে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হয়েছে ৩৯০ মিলিমিটার। আগামী ২৪ ঘণ্টা উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নবীনগর, ষোলঘরর, উত্তর আরপিননগর, জেলরোড, তেঘরিয়া, বড়পাড়া, পূর্ব নতুনপাড়া, ওয়েজখালী ও কালিপুর এলাকার নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর,দোয়ারাবাজার,ছাতক,বিশ্বম্ভরপুর, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ উপজেলার।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ৮৭টি ইউনিয়ন ও ৪ পৌরসভার ২২১টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১ হাজার ১০৬টি পরিবারের ৭ হাজার ৫১৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৫১০ জন নারী ২ হাজার ৯৫৭ জন ও শিশু ১ হাজার ৫২ জন। জেলায় ১ লাখ ৮ হাজার ৫৭৯টি পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৪৮৯ হেক্টর জমির ফসল ও ৩৬০ কিলোমিটার নদীর তীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৮৬৫ মেট্রিকটন চাল, ৫১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ২ হাজার ৪০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ২ লাখ টাকার গো-খাদ্য দুই লাখ টাকার শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।