কাবিটার অর্থায়নে স্থাপিত পাতকুয়ার সেচে লাভবান হচ্ছেন শেরপুরের প্রান্তিক কৃষক

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০
0Shares

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুর জেলার নকলা ও নালিতাবাড়ি উপজেলায় কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এর অর্থায়নে স্থাপিত পাতকুয়ার সেচে স্থায়ীভাবে সুবিধা ভোগ করছেন প্রান্তিক অগণিত কৃষক পরিবার। এর মাধ্যমে এখানকার তিন শতাধিক একর জমিতে বিনা খরচে সেচ সেবা পেয়ে সুবিধা ভোগ করছেন কৃষকরা। ফলে চাষাবাদে কৃষকের বছরে একদিকে প্রায় কোটি টাকা বেঁচে যাচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকের সেচের একটা স্থায়ী সমাধানও হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শেরপুরের নকলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরমধুয়া ও চর অষ্টধর ইউনিয়নের ডেবুয়ারচর এলাকায় ২টি এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নতুন করে উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়নে ২টি, পৌরসভার ধুকুড়িয়াতে একটি ও চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের রামপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের বাড়িতে আরও একটি করে পাতকুয়া স্থাপন করা হয়। কাজের বিনিময়ে টাকা এর অর্থায়নে এসকল পাতকুয়া স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি পাতকুয়া। এসব পাতকুয়া স্থাপনের অন্যতম উদ্যোক্তা নকলা ও নালিতাবাড়ীর সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রণালয়ের কৃষি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবকে সফল কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী।

তাঁর পরামর্শে ও তত্বাবধানে এসকল পাতকুয়া নির্মাণে অর্থায়ন করেছে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা)। ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের আওতায় এসব পাতকুয়া বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। প্রতিটি পাতকুয়া নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে ৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা করে। সৌর শক্তি চালিত এসব পাতকুয়ার মাধ্যমে কৃষকরা সারা বছরই বিনা খরচে সেচ সেবা ভোগ করছেন। বিশেষ করে বোরো আবাদে ও শীতকালীন শাকসবজি চাষে কৃষকরা এ কুয়ার সুবিধা বেশি ভোগ করেন। জানা গেছে, এখানকার প্রতিটি কুয়ার আওতায় ৩০টি কৃষক পরিবারের অন্তত দেড়শ জন করে কৃষক এর সুবিধা ভোগ করছেন।

শেরপুর বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী শাহ কিবরিয়া মাহবুব তন্ময় বলেন, পাতকুয়া গুলো ৫৬ ইঞ্চি ব্যসবিশিষ্ট। এর মাধ্যমে ১৩০ ফুট পাইপ দিয়ে তিন কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মটর দিয়ে পানি উত্তোলন করা হয়। এতে ১৬টি সোলার প্যানেলের প্রতিটিতে ২৫০ ওয়াট কক্ষমতার মাধ্যমে মোট ৪ হাজার ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ছাড়াও রয়েছে ৩ হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি পানির ট্যাংক। যেখানে বৃষ্টির পানিও ধারণ করা হয়। কুয়াগুলোর গভীরতা ১১৮ ফুট ও ব্যাস  ১৮ ইঞ্চি। এই কুয়াতে সব সময় ২০ ফুট পানি থাকে। বজ্রপাতের ক্ষতি থেকে বাঁচতে কুয়াগুলোতে লাগানো হয়েছে বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস জানান, আধুনিক কৃষি যন্ত্র হিসেবে পাতকুয়া কৃষকদের অধিক সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষ করে বোরো ও শুষ্ক মৌসুমে বা শীতকালে শাকসবজি চাষে এ পাত কুয়ার ভুমিকা অপরিসীম। বিএডিসি হিমাগারের উপপরিচালক (টিসি) কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পাতকুয়ার মাধ্যমে বিনা খরচে সেচ সেবা পেয়ে কৃষকের অতুলনীয় উপহার হচ্ছে। এতে কৃষকের সারা বছরের সেচের সমাধান হয়েছে। বিনা খরচে সেচ পাওয়ায় কৃষকের লাভও বেশি হচ্ছে।

শেরপুর খামার বাড়ির উপপরিচালক (ডিডি) ড. মোহিত কুমার দে বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় পাতকুয়ার স্থাপনের ব্যবস্থা করতে পারলে বছরের কয়েক মাস সেচ নিয়ে কৃষকদের ভাবতে হবেনা। ফলে বোরো আবাদে এবং শুষ্ক মৌসুমে ও শীতকালীন শাকসবজি চাষে বিল্পব ঘটানো সম্ভব। এতে করে একদিকে লাভবান হবেন কৃষক, অন্যদিকে সমমৃদ্ধ হবে কৃষি অর্থনীতি।