তাড়াশে অনুমতি না নিয়েই পশুর হাট! বিক্রেতাকে মারধর

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০
0Shares

মহসীন আলী,তাড়াশ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিনসাড়া পশুর হাট অনুমতি না নিয়েই চলছে। অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত টোল আদায়ের। গত ২৬ জুলাই রবিবার একটি সিন্ডিকেট চক্র সরকারি অনুমতি না নিয়ে জমজমাট পশুর হাট চালিয়েছেন । সরকারী নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রতিটি গরু থেকে ৭০০ টাকা এবং প্রতিটি ছাগল থেকে ৩০০ টাকা করে টোল আদায় করা হয়েছে। এতে করে ওই সিন্ডিকেট চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। এ ছাড়া ইজারাদারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়নি। যার ফলে হাটে আসা ক্রেতা বিক্রেতারা মাস্ক ব্যবহার করেন নি। এতে করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির আশংকা করছে এলাকাবাসী।
উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে এ বছর বিনসাড়া হাট ইজারা নেন তাড়াশ গ্রামের শ্রী অমুল্য কুমার সরকার। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী ইজারাদার হাট বাজার থেকে খাজনা নিতে পারবেন।( যেমন তরি তরকারী,ধান চাল,নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রবাদি।) শ্রী অমুল্য সরকারের নামে হাটের ইজারাদার রশিদ পরিবর্তন করে একই নামে পশুর হাট ইজারাদার রশিদ তৈরী করে প্রতিটি ক্রেতার গরুর জন্য ৫০০ টাকা বিক্রেতার জন্য ২০০টাকা ও প্রতিটি ছাগল ক্রেতার নিকট থেকে ২৫০ টাকা ও বিক্রেতার কাছ থেকে ৫০ টাকা করে টোল আদায় করছে। কিন্তু সরকারী নীতিমালাই রয়েছে প্রতিটি গরু ২৪০টাকা ও প্রতিটি ছাগল ৫০ টাক খাজনা নেওয়া যাবে। এ ছাড়াও প্রতিটি রশিদে টাকার পরিমাণ উলে­খ বাধ্যতামূলক হলেও তা না করে টাকার অংকের ঘর ফাঁকা রাখা হচ্ছে। সাব ইজারাদার আব্দুল মান্নান ও তার লোকজনদের জোরপূর্বক এ টোল আদায় করতে দেখা গেছে।

আবার ওই হাটেই একজন গরু বিক্রেতাকে মেরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাড়াশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে গরু বিক্রেতা পেঙ্গুয়ারী গ্রামের লুৎফর রহমান গরু নিয়ে হাটে আসলে গরু বাধা নিয়ে তর্ক বিতর্ক হলে এক পর্যায় হাটের প্রভাবশালী শাহ আলমের ছেলে মানিক ও ভুট্টুর ছেলে তুষার তাকে মেরে রক্তাক্ত করে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তাড়াশ গ্রামের আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, আমি ১৫ হাজার টাকার একটি ছাগল কিনেছি । কোরবানীর জিনিস স্ব-ইচ্ছায় খাজনা দিতে গেলে ইজারাদারের লোকজন জোর করে আমার কাছ থেকে ২৫০ টাকা ও বিক্রেতার কাছ থেকে ৫০টাকা নিয়ে একটি ফাঁকা রশিদ ধরিয়ে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিবাদ করলে ইজারাদারের লোকজন খারাপ্য আচরণ করছে।

সাব ইজরাদার আব্দুল মান্নান বলেন,আমি উপর মহলের কাছে অনুমতি নিয়েই পশুর হাট চালাচ্ছি। তা ছাড়াও এই হাট প্রতি বছর কোরবানীর আগে বসানো হয়। সরকারী অনুমতি লাগে না।

ইজারাদার শ্রী অমুল্য কুমার সরকার বলেন,আমি সাব ইজারা দিয়েছি হাট বাজারের জন্য। পশুর হাট লাগানো হয়েছে এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফ্ফাত জাহান বলেন, বিনসাড়া পশুর হাট লাগানো হয়েছে আমি শুনেছি তবে এ বিষয়ে কেউ কোন অনুমতি নেয় নি। তাড়াশ উপজেলার শুধু ২টি হাট পশুর হাট হিসেবে অনুমতি দেওয়া আছে। এ হাট গুলো অতিরিক্ত খাজনা নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।