বাউফলে মহিষ মোটাতাজাকরণে ঝুঁকেছে খামারিরা

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০
0Shares

এম.নাজিম উদ্দিন,পটুয়াখালী:
পটুয়াখালী বাউফলের চরাঞ্চলের খামারিরা সাধারন পদ্ধতিতে মহিষ পালন করে তেমন লাভবান হতে পারতেন না। প্রতি বছর যে বাচ্চা পেত তা বিক্রি করে কেবল তাদের খরচ যোগান দিত। মহিষ মোটাতাজা করে গরুর মত আয় করা যায় এমন ধারনা তাদের ছিল না।
পিকেএসএফ ও ইফাদের অর্থায়নে পেইজ প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) “উপকূলীয় চরাঞ্চলে ( বাউফল ও মনপুরা) মহিষের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আয়বৃদ্ধিকরণ” শীর্ষক ভ্যালু চেইন উন্নয়ন প্রকল্প বাউফলে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, গত দুই বছর যাবৎ জিজেইউএস তাদের বিভিন্ন প্রশি¶ণ ও প্রদর্শনী দেওয়ার কারনে এবছর ৩৮ জন খামারি ১১০টি মহিষ কোরবানিতে বিক্রির উদ্দেশ্য করে ৪ মাস পূর্বে মোটাতাজা শুরু করেছিল। সম্প্রীতি মোটাতাজা শেষে ১,০২,৮৫,০০০/- টাকায় বিক্রি করে। গড়ে মহিষ প্রতি তাদের ৩৩হাজার টাকা লাভ হয়। এতে করে বাউফলে মহিষ মোটাতাজাকরণ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এদিকে ঝুঁকছে সাধারন মহিষ খামারিরা।
উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের আলমেচ মাতব্বর নামে এক খামারি বলেন ,‘ আমি গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থার “সহকারী ভ্যালু চেইন ফ্যাসিলিটেটর” মোঃ সাব্বির হোসেনের পরামর্শে ৪ মাস আগে ১ল¶ ১৫ হাজার টাকা দিয়ে কালাইয়া হাট থেকে দুটি মহিষ ক্রয় করে মোটাতাজা করা শুরু করি। গত কোরবানী হাটে মহিষ দুটি ১ ল¶ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। তিনি আরও বলেন,‘এ বছর বাজার মূল্য কিছুটা কম থাকায় আশানুরূপ দামে বিক্রি করতে পারি নাই, তারপরেও পূর্বের চেয়ে বেশি লাভবান হয়েছি।
মোটাতাজাকৃত মহিষ বিক্রি করতে খামারিদের তেমন সমস্যায় পরতে হয় না। স্থানীয়দের পাশাপাশি কালাইয়া গো-মহিষ হাট থেকে দুর-দুরান্তের ব্যবসায়ীরা মহিষ কিনে নেয়। অধিক লাভবান হচ্ছেন তাঁরা। সংস্থা সংশ্লিষ্টরা জানায়, মহিষ মোটাতাজাকরণে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যা অল্প সময়ে দ্রুত মাংস পেশি বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। সেসব প্রযুক্তি গুলো হলো Ñ ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র খাদ্য (ইউএমএস) প্রযুক্তি, ইউরিয়া ট্রিটেড স্ট্র (ইউটিএস) প্রযুক্তি, সাইলেজ খাদ্য প্রযুক্তি ইত্যাদি। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে খামারিরা আগের তুলনায় অনেক বেশি লাভবান হচ্ছে পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে মহিষের মাংসের জনপ্রিয়তাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার উপ-পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা নিরাপদ মহিষের মাংস উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণে সর্বদা খামারিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। ফলে অল্প কিছুদিনেই মহিষের মাংস মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মহিষের মাংসের চাহিদা বৃদ্ধি ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন চ্যানেল তৈরি হওয়ায় মহিষ মোটাতাজাকরণ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এজন্য আমি পিকেএসএফ কে ধন্যবাদ জানাই কারন তাদের দিক নির্দেশনার মাধ্যমেই প্রথম মহিষ মোটাতাজা করার উদ্যোগ নেয়া হয়। ’
গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন বলেন,‘ মহিষের মাংস বাজারজাতকরণের এখন সময় এসেছে, আমরা এটা নিয়ে বৃহদাকারে কাজ করতে চাই। আমরা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারই নয় বিদেশেও কীভাবে সহজে রপ্তানি করা যায় সেটা নিয়ে ভাবছি। এসব নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য পিকেএসএফ বিগত দিনেও আমাদের সাথে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আশা করছি।