শেরপুরের নকলায় এতিম, দরিদ্র ও বন্যার্তদের হাতে সমাজ কল্যাণ সংস্থার ঈদ উপহার

প্রকাশিত: ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০
0Shares

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার অন্তত ৮ শতাধিক এতিম, দরিদ্র ও বন্যার্তদের মুখে হাসি ফুটানোর প্রত্যয়ে নিরলস কাজ করছে ‘সমাজ কল্যাণ সংস্থা’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে এতিম অসহায় শিশুদের হাতে ঈদের নতুন পোশাক তুলে দিয়েছেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক গর্বিত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লুৎফর রহমান লিখন।

লুৎফর রহমান লিখন জানান, করোন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলাকালে শুরু হয়েছে বন্যা। ফলে স্বাভাবিক কারনেই মানুষের ঘরে খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাব দেখা দিয়েছে। এতে আগত ঈদ-উল-আযহার আনন্দ অনেক পরিবারেই ম্লান হতে চলেছে। এমতাবস্থায় সাদ্যানুযায়ী এতিম, দরিদ্র ও বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো সামর্থবানদের নৈতিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ববোদের স্থান থেকেই সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে  ৫০০ এতিম শিশু ও ৩০০ বন্যার্ত দরিদ্র পরিবারের মাঝে নতুন পোশাক, খাদ্য সামগ্রী ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এতিম শিশু ও দরিদ্রদের মুখে হাসি দেখলে আনন্দে আমার বুক ফুলে ওঠে। অসহায়দের মুখে হাসি ফুটানোই তার সংগঠনের সকল স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্দেশ্য বলে তিনি জানান।

সংগঠনের সাথে জড়িত অনেক স্বেচ্ছাসেবক জানান, ঈদকে সামনে রেখে এতিম শিশু ও বন্যার্ত দরিদ্রদের মাঝে নতুন পোশাক, খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন ঈদ উপহার সামগ্রীর ৮০ ভাগ থেকে ৮৫ ভাগ টাকা সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লুৎফর রহমান লিখনের চাকরির বেতন থেকে নিজস্ব অর্থায়নে কিনা হয়েছে। আর বাকি ১৫ ভাগ থেকে ২০ ভাগ ব্যয় চলে সংগঠনের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক ও স্বেচ্ছায় দান করা অন্যান্যদের অর্থায়নে। তারা আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জন্য নতুন পোশাক ও ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) এর সংক্রমণ রোধে পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্তত ৫ হাজার মাস্ক, পিপিডি, পিপিই, সেনিটাইজার ইত্যাদি বিতরণের কাজও চলছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় দুই সহশ্রাধিক মাস্ক বিতরণ করাসহ পিপিডি, পিপিই, সেনিটাইজার ইত্যাদি সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে বলেও তারা জানান। তবে ঈদ অতি নিকটে চলে আসায় আপাতত গাছের চারা বিতরণ ও রোপন কাজ স্থগিত আছে বলে জানান সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লুৎফর রহমান লিখন।

এমন মহতি কাজে যে বা যারা স্বেচ্ছায় কায়িক পরিশ্রমসহ সামর্থ অনুযায়ী অর্থ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন তাদের মধ্যে- সাইফুল ইসলাম, রাকিব হাসান, এস.কে রাফিজ, হাফিজুল ইসলাম লিটন, টিটু মিয়া, লোকমান হোসেন, লাঞ্জিত সরকার, রাইসুল ইসলাম রিফাত, শরীফ সরকার, আশিকুর রহমান লেলিনসহ অনেকের নাম উল্লেখযোগ্য।

অনেক এতিম শিশুদের সাথে কথা হলে তারা নিজেদের মতো করে জানায়, লিখন স্যার আমাদের নতুন কাপড় কিনে না দিলে হয়তো পুরাতন কাপড় পড়েই ঈদের নামাজ পড়তে হতো বা ঈদ কাটাতে হতো। সমাজ কল্যাণ সংস্থার মতো দেশের প্রতিটি এলাকায় একটি করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে ওঠলে দেশে অসহায় বলতে কেউ থাকবে না বলে অনেকে মন্তব্য করেন।