বাউফলে অনুমোদনহীন গরুর হাটে চাঁদা আদায়, নেপথ্যে চেয়ারম্যান

প্রকাশিত: ১১:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০
0Shares

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে আসন্ন ইদুল আযহা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক অস্থায়ী গরুর হাট ইজারা আদায়ের অনুমোদনহীন হাট থেকে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নে। প্রশাসনের কোন অনুমতি না থাকলেও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুমতি রয়েছে বলে দাবী করে চাঁদা আদায়ের সাথে জড়িতরা।

বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যমনি ইউনিয়নের গুলবাগ সিনিয়ার মাদ্রাসা সংলগ্ন জামে মসজিদের নামে বিক্রিকৃত গরু-ছাগলের ক্রেতার কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। ইউনিয়নের পূর্ব ইন্দ্রকুল বায়তুল আকরাম জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট থেকে চাঁদা আদায় করছে ওই মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. নরুল ইসলাম খাঁন। উপজেলা প্রশাসন কোন অনুমোদন আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,‘ আমরা চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে হাট বসিয়েছি।

তিনি আরো বলেন,‘ কোরবানি উপলক্ষে প্রতিবছরই এখানে হাট বসে। আদায়কৃত টাকা মসজিদের উন্নয়নে কাজ করা হয়। একই কথা জানান বায়তুল আকরাম জামে মসজিদের নামে পশু বিক্রির চাঁদা আদায়কারী মো. নুরুল ইসলাম খাঁন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন যুবলীগের শীর্ষ পদে থাকা এক নেতা বলেন, চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় তাঁর লোকেরা সরকারের অনুমতি না নিয়ে অস্থায়ী হাট বসিয়ে মসজিদের নামে চাঁদা আদায় করছে। অপরদিকে গতকাল (বুধবার) ইন্দ্রকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুমোদনহীন গরুর হাট বসায় সূর্যমনি ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারন সম্পাদক মো. আনিচ হাওলাদার। অভিযোগ স্বীকার করে আনিচ হাওলাদার বলেন, হাট শুরু হওয়ার পরে কনকদিয়া ইউনিয়ন তশিলদার হাট বন্ধ করার জন্য লোক পাঠায়।

পরে তাঁর থেকে অর্থের বিনিময়ে মৌখিক অনুমতি পাই। মন্তব্য নেওয়ার জন্য কনকদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেনে সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে ইউনিয়নের নুরাইনপুর বাজার সংলগ্ন কলেজ মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট ইজারা আদায়ের অনুমোদন থাকা সত্বেও অবৈধভাবে হাট মিলিয়ে পশু কেনা-বেচা করায় লোকসান গুনতে হবে ইজারাদারকে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সূর্যমণি ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন,‘আমি কাউকে কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেইনি। যদি কেউ হাট বসায় তাহলে আমার কিছু করার নেই।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব জাকির হোসেনের দৃষ্টি আর্কষণ করলে তিনি বলেন,‘ কোরবানি উপলক্ষে মোট ১৭টি অস্থায়ী গরুর হাটে নির্ধারিত মূল্যে ইজারা আদায়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর বাহিরে কোন হাটের অনুমোদন নেই। গতকাল একটি অনুমোদনহীন হাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এবিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।