ঈদ আনন্দ ম্লান বন্যা করোনায় !

প্রকাশিত: ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২০
0Shares

আগামীকাল শনিবার (১০ জিলহজ) পবিত্র ঈদুল আজহা। বাঙালি সমাজে ‘কোরবানির ঈদ’ নামেও পরিচিত মুসলমানদের এই অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এদিন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায়ে পশু কোরবানি দেবেন।

বিশ্বের মুসলিমরা ১০ জিলহজ পশু কোরবানি করে থাকেন। তবে ১১ ও ১২ জিলহজও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। কিন্তু চলমান করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বন্যার কারণে ঈদ আনন্দ অনেকটাই ম্লান। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এবার ঈদগাহ মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। নামাজ শেষে কারও সঙ্গে কোলাকুলি বা হাত মেলানো যাবে না। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাংলাদেশে এ রোগে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৮৮৯ জনে। মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ৮৩ জনের। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী চলছে করোনা মহামারীর তাণ্ডব। যার কারণে বৃহস্পতিবার সীমিত আকারে অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র হজ।

সেখানে অংশ নিয়েছেন মাত্র ১০ হাজার মুসল্লি। অথচ প্রতি বছর গড়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ হজে অংশগ্রহণ করেন। করোনার সময় উদযাপিত গত ঈদুল ফিতরের মতো অনেকেই এবারের ঈদুল আজহাকে ঘরবন্দি মানুষের ঈদ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ ঈদের আনন্দ বলতে আমরা যা বুঝি তার অনেক কিছুই এবার করা যাবে না করোনা পরিস্থিতির কারণে। তবে মহামারির কারণে কিছুটা কম হলেও সারাদেশে বিরাজ করছে ঈদের আমেজ। কিন্তু এ আমেজ পুরোপুরি উধাও দেশের বন্যাকবলিত ৩১ জেলায়। ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লক্ষাধিক মানুষ। এক মাসেরও অধিক সময় এসব জেলার মানুষ বানের পানিতে ভাসছে। এর ওপর শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। এতে চোখের পলকে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে নদীতীরের মানুষ। ইতোমধ্যে রাজধানীর আশপাশের এলাকাতেও প্রবেশ করেছে বন্যার পানি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলেই থাকতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

তারপরও রাজধানী ঢাকা বা দেশের অন্য এলাকায় যারা জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে থাকেন, তারা অনেকেই বরাবরের মতো গ্রামের বাড়ি গেছেন। কষ্ট ভোগ করে লাখো মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে স্বজনদের কাছে ছুটে গেছেন। আজও অনেকে বাড়ি যাবেন। তবে করোনা আতঙ্কের কারণে এবার গ্রামে মানুষ যাওয়ার ঢল অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম। রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষের মধ্যেই করোনার আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারপরও আল্লাহর সন্তুষ্ট লাভের আশায় তারা কষ্ট শিকার করে গ্রামে যাচ্ছেন কোরবানি দিতে।

কিন্তু এই ঈদযাত্রায় অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। মাস্ক পরছেন না, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন না। ফলে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামীকাল সকালে মুসল্লিরা নিকটস্থ মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। খতিব নামাজের খুতবায় তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদেও প্রধান জামাত সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।

ঈদের জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন।

 

ঈদের নামাজের শর্ত : ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনাবলিতে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে, সেগুলো হল-

 

১. করোনাভাইরাস পরিস্থিতিজনিত কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদুল আজহার জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে কাছের মসজিদে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে।

 

২. জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

 

৩. প্রত্যেককে বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

 

৪. মসজিদে অজুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

৫. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।

 

৬. জামাতে আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

 

৭. নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

 

৮. শিশু, বৃদ্ধ, যে কোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশগ্রহণ করবেন না।

 

৯. স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

 

১০. জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

১১. নামাজ শেষে খতিব ও ইমামরা মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া চাইবেন।

 

১২. খতিব, ইমাম, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

১৩. কোরবানির ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটি এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবেন।

আরিফুল ইসলাম (বার্তা সম্পাদক)
“দ্যা নিউ স্টার”