ঢাকা, ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

বাউফলে আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত-২, গ্রেপ্তার-১১


প্রকাশিত: ১১:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২০
0Shares

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা রাকিব উদ্দিন রোমান (৩৪) ও ছাত্রলীগ নেতা ইশাত তালুকদার (২৪) নিহত হয়েছে। গত রোববার (২ আগষ্ট) সন্ধায় কেশবপুর বাজারে এ ঘটনাটি ঘটেছে। সংঘর্ষের পর একটি মাইক্রোবাস ও একটি মটর সাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুই যুবলীগ কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সাংসদ আ.স.ম. ফিরোজ এখন বাউফলে অবস্থান করছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেশবপুর ইউনিয়নে তালুকদার এবং বেপারী বংশ রয়েছে। শিক্ষিত ও সমাজে গন্যমাণ্য হিসেবে ইউনিয়ন ব্যাপি তাদের সুনামও রয়েছে। এই বংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেশবপুর কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ উদ্দিন পিকু। অপরদিকে বেপারী বংশের লোকজন ব্যাবসা-বাণিজ্য করে সমাজে তাদেরও একটা অবস্থান সৃষ্টি করেছেন। ওই বংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাসেল বেপারী। উভয় বংশের লোকজনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি করার সময় উভয় বংশের লোজনকেই কমিটিতে রাখা হয়েছে। অপরদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদ লাভুও অনেক চড়াই উতরাই পার করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ছাত্র জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র মৈত্রীর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯৬ থেকে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেশবপুর ইউনিয়ন কমিটি গঠনর সময় সর্ব সম্মতিক্রমে সালেহ উদ্দিন পিকুকে সভাপতি এবং চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাভুকে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। মহামারি করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে সহায়তা দেয়ার জন্য দলীয় কিছু কার্যক্রম ছিল। ওই কার্যক্রমে বাস্তবায়নে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। একে অপরের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙখলা বাহিনীর কাছে অভিযোগও দেন। এর ফলশ্রæতিতে এক মহিলা মেম্বরকে চাউল আত্মসাতের অভিযোগে জেল খাটতে হয়েছে এবং চেয়ারম্যানের অফিস ও গোডাউন তল্লাশিও করা হয়েছে। এসময় বেপারী বংশের লোকজন সাধারন সম্পাদককে সমর্থন করে যান। ওই থেকেই উভয়ের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
ওই বিরোধের জেরে গত ৩১ জুলাই শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে উভয় গ্রæপের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের তিনজন গুরুতর জখম হয়। গত রোববার (২ আগষ্ট) সন্ধায় সাধারন সম্পাদক সমর্থিত ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রফিকুলের সাথে যুবলীগ কর্মী রাকিব উদ্দিন রোমান ও ইশাত তালুকদাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে উভয়ের সমর্থকরা লাঠিসোটা ও দেশিও অস্ত্র নিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে সভাপতি সালেহ উদ্দিন পিকু’র আপন ভাই যুবলীগ নেতা রাকিব উদ্দিন রোমান ও চাচাতো ভাই যুবলীগ কর্মী ইশাত তালুকদার গুরুতর আহত হয়। এদের মধ্যে ইশাত তালুকদার ঘটনাস্থলেই মারা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। রোমান ও ইশাতকে দ্রুত উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লে·ে নিয়ে যাওয়া হয়। উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লে·ের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আখতারুজ্জান জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই নিশাতের মৃত্যু হয়েছে। অপর দিকে রাত নয়টা ২০ মিনিটের সময় রোমানের মৃত্যু হয়। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোপসহ লাঠির আঘাত ছিল। কেশবপুরের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন কর্মীরা জানান, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দীর্ঘদিন অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলে আসলেও দলের উপজেলা পর্যায়ে কোন নেতা কোন্দল নিরশনে কোন হস্তক্ষেপ নেননি। ফলে তারই ধারাবাহিকতায় এই জোড়া খুন সংঘটিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার সাথে জরিত সন্দেহে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

error: