শ্রাবণের খরতাপে  অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০
0Shares
সুনামগঞ্জ  প্রতিনিধি :

বন্যা পরবর্তী খরায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রোদের প্রখরতায় পেশাজীবী মানুষেরা ঘরের বাইরে যেতে পারছেন না। দিনমজুর শ্রেণীর মানুষেরাও পারছেন না দৈনন্দিন কাজে যেতে। কর্মক্ষেত্রে যেতে না পারায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ জীবিকা নিয়ে নানা সংকটে পড়েছেন।
চলতি বছরে করোনায় ব্যবসা বাণিজ্যের ধস নেমেছে, ৩ দফা বন্যায় ঘর-বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। বন্যাত্তোর খরায় মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব কারণে শিক্ষা, চিকিৎসা ও পরিবারের ভরনপোষণ নিয়ে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
গত ১ আগস্ট শনিবার ঈদের দিন সকাল থেকে প্রচন্ড রোদের উত্তাপ ও ঘাম ঝরা গরমে মারাত্মকভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মহিলা, পুরুষ, শিশু ও বয়স্ক মানুষেরা। প্রচন্ড খরতাপে টিন বা পাকা ঘরে শান্তি নেই, রাস্তা-ঘাটে চলাফেরায় শান্তি নেই, অফিস আদালতে শান্তি নেই, শান্তি নেই কোনো কাজ কর্মে বা খাবার খেতে ও ঘুমোতে। এই গরমে লেগে আছে ঘন্টার পর ঘন্টা পল্লীবিদ্যুতের লোডশেডিং। গরম এড়িয়ে চলতে না পারায় শিশুরা সর্দি, জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এই গরমে শান্তির খোঁজে কেউ কেউ আশ্রয় নিচ্ছেন নদীরপাড়ের বা হাওরপাড়ের বড় বড় গাছ তলায়। কেউ কেউ আবার আশ্রয় নিচ্ছেন বহুতল দালান বিশিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে। একটু শান্তির জন্য মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা আজানের ঘণ্টাখানেক আগে থেকেই মসজিদে অবস্থান করছেন। শিশুরা গরম থেকে বাঁচতে ঘন্টায় ঘন্টায় সাঁতার কাটছেন নদী বা হাওরের পানিতে। এই গরমে শহরের ফুটপাতে দোকান নেই। সবজি বা খুচরা ব্যবসায়ীরা রাস্তার পাশে দোকান মেলে ধরেননি এই গরমে। মার্কেট বা শপিং মল ছাড়া রাস্তার পাশের দোকানপাট অনেকটাই বন্ধ। এই গরমে শহরে রিক্সা, অটো রিক্সা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল অনেকটাই কম রয়েছে।
রিক্সা চালক বশির মিয়া বলেন, সূর্য উঠার সাথে সাথে গরমের প্রখরতা শুরু। শরীরের যে স্থানে রোদ লাগে মনে হয় যেন আগুন। ছাতা মাথায় দিয়ে রিক্সা চালানো যায় না। গামছা বা কাপড় মাথায় দিতে হয়। একবার যাত্রী নিয়ে আসলে আর মনে হয় না যেতে। শরীর ঘামে ভিজে যায়। তবে খরা হওয়া জরুরি প্রয়োজন।
হাছনবাহার এলাকার বাসিন্দা নয়ন চন্দ্র দেব শহরে এসে  কাপড় ও চাউল কিনে নিতে। গরম থেকে বাঁচতে মাথায় গামছা বেঁধে চলেছেন। তিনি জানান, গ্রামে গরম যেমন তেমন শহরে বেশি। রাস্তা-ঘাট পাকা, অনেক দালান কোঠা ও অট্টালিকা। এই জন্য গরমের উত্তাপ বেশি। শর্টকাটে মালামাল কিনে বাড়িতে চলে যাব। গিয়ে লেবুর সরবত খাব। ওর স্যালাইন খাওয়ার চেয়ে লেবুর সরবত খাওয়া অনেক ভাল।
অ্যাড. নুর হোসেন বলেন, গরমে তো গায়ে শার্ট লাগানো যায় না। কোট ও টাই লাগানো সম্ভব নয়। এবার করোনা, বন্যা, অতিবৃষ্টি ও খরায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। তবে এই খরায় বন্যার পানি ও রাস্তা-ঘাট দ্রুত শুঁকিয়ে যাবে। জরুরি প্রয়োজনে মানুষ সকল স্থানে যাতায়াত করতে পারবে। এই সময়ে খরা খুবই প্রয়োজন।