বাউফলের নুরাইনপাশার আড়াই কিঃ মিঃ রাস্তা সারা বছরই কাঁদা

প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০
0Shares

এম.নাজিম উদ্দিন,পটুয়াখালী:
শুকনো মৌসুম কিংবা বর্ষা, রাস্তার প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশ জুড়ে সারা বছরই থাকে কাঁদা। কাদা আবৃত থাকা এই রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমে হাঁটু সমান কাদা-পানি হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। কিন্তু জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা পাকাকরণের দাবি এখনো পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। শুধু দায়সারা আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের নুরাইনপাশা খেয়াঘাট থেকে মরহুম রত্তন আলী মিয়ার বাড়ির সড়কটি বৃটিশ আমলের হলেও এখন পর্যন্ত রয়েছে কাঁচা সড়কেই। রাস্তা জুড়ে হাঁটু সমান কাদা-পানি থাকায় সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারছেন না। রাস্তার আশপাশের ঘরবাড়ির মানুষ অনেকটাই ঘরবন্দী জীবন-যাপন করছেন। বিকল্প রাস্তা না থাকায় এই রাস্তা দিয়ে নুরাইনপাশা গ্রামের গবাদিপশু বিচরণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে নুরাইনপাশা গ্রামের শিক্ষক মো: হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এমনিতেই এখানে সারাবছর কাদা থাকে কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তাটি সম্পূর্ণ চলাচল অনুপযোগী হয়ে পরায় এলাকার শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে পারছেনা। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।’

নুরাইনপাশা গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের আর কোন দাবি নেই, দাবি একটাই। সেটা হচ্ছে আমাদের অন্যতম প্রধান বৃটিশ আমলের রাস্তাটি যেন পাকাকরণ করা হয়। বর্ষার সময় হাঁটু সমান কাদার কারণে দুর্ভোগে পরতে হয় মসজিদের মুসল্লি, স্কুলের ছাত্রছাত্রীসহ এই রাস্তাায় দিয়ে নিয়মিত চলতে হয় তাদের।

সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, নুরাইনপাশা খেয়াঘাট থেকে দক্ষিণ নুরাইনপাশা ও পশ্চিম নুরাইনপাশার বিভিন্ন সড়কে কাদাপানিতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নুরাইনপাশা গ্রামের চান মিয়া বলেন, এ রাস্তাটি পাকা করলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আশা পূর্ণ হবে। এ রাস্তা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহি মিয়া বাড়ির অন্যতম প্রধান রাস্তা। রাস্তাটি পাকা হলে স্থানীয়রা ভালোভাবে মিয়া বাড়ির মসজিদে নামাজ পরতে আসতে পারবে।
স্থানীয় ওয়াহাব মিয়া ও সত্তার মিয়া বলেন, নুরাইনপাশা খেয়াঘাট হতে রত্তন আলী মিয়ার বাড়ির সড়ক কাচা হওয়ায় এ সড়কটিতে একটু বৃষ্টি হলেই কাদা হয়ে যায়। ফলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরে। রাস্তাটির কোথাও হাঁটু সমান কাদাও লক্ষ্য করা গেছে। এতে এলাকাবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। সরকার এই রাস্তাটির দিকে সুদৃষ্টি দিলে এলাকাবাসীকে ভয়াবহ দুর্ভোগ ও ভোগান্তি হতে র¶া করবে।

এদিকে নুরাইনপাশা খেয়াঘাটের দোকানদার সেলিম খান বলেন,নুরাইনপাশা খেয়াঘাট থেকে জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান বাড়ি পর্যন্ত সড়কটিও কাদায় ভরপুর। এ রাস্তাটি কাচা হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগের শেষ নেই। গ্রামের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ইয়াকুব ফকির বলেন, নুরাইনপাশা খেয়াঘাট থেকে দক্ষিন নুরাইনপাশা হয়ে কুম্বোখালী পর্যন্ত পাকা করন করা অতীব জরুরি। এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তাাটি পাকা করে সরকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের এই রাস্তাটির বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে বেশ কিছুদিন আগে আমি একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিলাম। স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবে চীফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ এমপি মহোদয়ও অবগত আছেন এবং উনার সাথে আমার আলাপ হয়েছে। এব্যাপারে তিনি যথেষ্ট আন্তরিক। জানতে পেরেছি রাস্তার এই বেহাল অংশসহ প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তাা পাককরণ এখন টেন্ডারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। টেন্ডার হয়ে গেলে শীঘ্রই রাস্তাা পাকাকরণের কাজ শুরু হবে ইনশাআল্লাহ।