আশুলিয়ায় সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম

প্রকাশিত: ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২০
0Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার:  সাভারের আশুলিয়ায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান (৫৭) কে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খেজুরটেকের সেনাপল্লী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই সেনা কর্মকর্তা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্পোরাল অফিসার এবং সেনাপল্লী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।এ ঘটনায় অনারী ক্যাপ্টেন (অব:) মো: রমজান আলী বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেনাপল্লী পর্ষদ নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে খেজুরটেক সেনাপল্লী মসজিদের পাশে মিটিং চলাকালে খেজুরটেক সেনাপল্লী এলাকার গোলাম মোস্তফা (৫৫), ইব্রাহীম (৫৫), আকবর (৫২), গোলাম মোস্তফা (৪৫), আব্দুর রহমান (৫৬), সিরাজুল ইসলাম (৫৫), আলাউদ্দীন হাওলাদার (৫৪) ও শহিদুল ইসলাম (৫৩) সহ তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন পূর্বপরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করে লাঠিসোটা, রামদা, ছোরা, ছ্যান ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতভাবে সমিতির সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

এসময় বিবাদী সিরাজুল ইসলাম ও আলাউদ্দীন হাওলাদারের হুকুমে বিবাদী মোস্তফা তার হাতে থাকা ছ্যান দিয়ে কর্পোরাল (অব:) মিজানুর রহমানের মাথা লক্ষ করে কোপ মারে। মিজানুর রহমান মাথা সরিয়ে নিলে তার কপালে কোপ লেগে কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। বিবাদী ইব্রাহিম, আকবর ও আব্দুর রহমান লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মিজানুর রহমানের হাত, পা, পিঠ সহ সারা শরীরে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।

এসময় অনারারী ক্যাপ্টেন (অব:) দেলোয়ার হোসেন ও সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার (অব:) জামাল উদ্দিন বাদশা ছাড়াতে গেলে বিবাদীরা সকলে মিলে তাদেরকে মারপিট করে সারা শরীরে জখম করে। একপর্যায়ে বিবাদী গোলাম মোস্তফা (৪৫) হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার (অব:) জামাল উদ্দিন বাদশাকে মাথা লক্ষ করে সজোরে বারি মারে। সে হাত দিয়ে ঠেকালে তার ডান হাতের উপর লেগে হাড় ভাঙ্গা গুরুতর জখম হয়। পরে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। অনারী ক্যাপ্টেন (অব:) মো: রমজান আলী অভিযোগ করে বলেন, আলাউদ্দীন হাওলাদারের নেতৃত্বে সেনাপল্লী এলাকায় বিভিন্ন সেক্টর থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত মূল্যে ডিস সংযোগ, ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সেনাপল্লীর বাসিন্দারা। এ ন্যাক্কারজনক হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাহিদ হাসান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ থেকে পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।