এমপি মুহিবের লালিত সন্ত্রাসী আশিক বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে ছাত্রলীগ নেতার আকুতি

প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২০
All-focus
0Shares

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
সরকার দলীয় পটুয়াখালী- ৪ আসনের এমপি’র লালিত সন্ত্রাসী আশিক ও মুছা বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ জহিরুল ইসলাম মিরাজ। গতকাল ৯ আগস্ট রবিবার সকাল ১১টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ নেতা মিরাজ এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিরাজ বলেন, পটুয়াখালী-৪ আসনের (কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী) সরকার দলীয় এমপি মুহিবুবুর রহমান মুহিবের পক্ষালম্বন না করায় তার লালিত-পালিত আশিক বাহিনীর সন্ত্রাসীরা গত ৬আগষ্ট মধ্যরাতে ‘এমপি সাহেব ডেকেছে বলে’ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিরাজকে তার বাসা থেকে বাম-মা’র সামনে থেকে জোড়পূর্বক অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। পথিমধ্যে ধানখালী তাপবিদ্যুৎ পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা জাকির হোসেন তাদেরকে দেখে ফেললে চিৎকার করে তাকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে মিরাজ বলে, ‘স্যার ওরা আমাকে জোড় করে তুলে নিয়ে যায়। ওরা আমাকে প্রানে মেরে ফেলবে আমাকে বাঁচান’। এসময় মোটরসাইকেল থামিয়ে আশিক বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড মুছা বলে আমরা বন্ধুবান্ধবরা এমপি সাহেবের সাথে দেখা করতে রওয়ানা হয়েছি। মিরাজ আপনার সাথে ইয়ার্কি করছে। পরে পুলিশ কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলে, ‘মুছা মিরাজের যেন কোন সমস্যা না হয়’। এই বলে সন্ত্রাসীরা আশিককে নদীর পাড়ে নিয়ে আশিকগং হকিস্টিক, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত গুরুতর জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আশিককে মাটিতে শোয়ায়ে ধাড়াল দা দিয়ে মিরাজকে জবাই করে হত্যা করার চেষ্টা করলে মুছা বাধা দিয়ে বলে পুলিশ কর্মকর্তা জাকির ভাই দেখেছে, এখন মেরে ফেললে আমরা সবাই ফেসে যাবো। পরে আশিক তার বাসার পিছনে কথিত টর্চার সেলে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে মিরাজকে। পরে আশিক হকিস্টিক দিয়ে মিরাজের মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায়। কলাপাড়া থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান পুলিশ পাঠিয়ে মিরাজকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং কোন ধরনের জিডি না করে ¯স্বাক্ষর রেখে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। এরআগে ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য আশিক তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক পেইজে মিরাজকে নিয়ে একটি ছবি তুলে পোষ্ট দেয় যে, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে চায়ের আড্ডায় আছি’।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আশিক বলেন, ‘মূলত মুছা ও মিরাজের সাথে ব্যবসায়ীক দ্ব›দ্ব সেখানে অহেতুক আমাকে জড়ানো হয়েছে। আমি বরং ঘটনা শুনে থানায় গিয়েছিলাম। পরে পৌর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী মাছুম ব্যপারী ও আমি মিলে আপোষ মিমাংষা করে দিয়েছি। এ ঘটনার সাথে আমি জড়িত না। আমি কিছুই জানিনা। আমার কোন বাহিনী নাই’। এ ব্যপারে সংসদ সদস্য মুহিবুবুর রহমানের সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মিরাজ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎিসারত আছে। সে ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীতায় ভোগছে বলে সাংবাদিকদের জানান মিরাজ। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে মিরাজ ।