চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন বাউফলে আসামীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১১:৫৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২০
0Shares

এম.নাজিম উদ্দিন,পটুয়াখালী:
পটুয়াখালী বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি রকিব উদ্দিন রুমান ও তার চাচাতো ভাই যুবলীগ কর্মী ইশরাত তালুকদারের খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে কেশবপুর ডিগ্রী কলেজ মিলনায়তনে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত যুবলীগ নেতা রুমানের বড় ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ সালেহ উদ্দিন পিকু। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,‘গত ২ আগস্ট সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষ একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (বহিস্কৃত) মহিউদ্দিন লাভলু ও তার দোসররা আমার ভাই যুবলীগ নেতা রুমান ও চাচাতো ভাই ইশরাতকে নৃশংস ভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে খুন করে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাভলুকে প্রধান আসামি করে ৫৯ জনের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় একটি হত্যা মামলা করলেও পুলিশ প্রধান আসামী লাভলু, ফারুক তালুকদার, রফিকুল ইসলাম ও রাসেল হাওলাদার, ইব্রাহিম, রাসমোহন ও আব্বাসসহ অন্যান্য আসামীদের এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেননি। বরং তারা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সরব থেকে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আর বলেন,‘ঘটনার পর খুনিরা উল্লাস প্রকাশ করেছেন। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের মত আমাদেরকেও স্বপরিবারের হত্যা করার হুমকি দিয়েছেন।’ সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামীলীগ নেতা সালেহ উদ্দিন পিকু বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুনের প্রতি ক্ষুদ্ধ মনোভাব দেখিয়ে বলেন,‘ গত ৩১ জুলাই দুপুরে কেশবপুর বাজারের চেয়ারম্যান লাভলুর দোসররা আমার ছোট ভাই হাফিজ উদ্দিন পিন্টু, জোড়া খুন মামলার বাদি মফিজ উদ্দিন মিন্টুসহ ৮-১০ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেন। এই ঘটনায় আমি ওই দিন সন্ধ্যায় মামলা করার জন্য বাউফল থানায় যাই। কিন্তু ওসি (তদন্ত) আল মামুন আমার এজাহারটি রজু করেননি। ওই সময় তিনি মামলা নিলে হয়তো এই জোড়া খুনের ঘটনা নাও ঘটতে পারতো। ওসি (তদন্ত) আল মামুন মামলা না নেয়ার কারণেই এজাহারে উল্লেখিত আসামীরা ২ আগস্ট সন্ধ্যায় আমার দুই ভাইকে খুন করেন। চেয়ারম্যান লাভলু এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্যই সন্ত্রাসীদের লালন পালন করছেন। আমি এই জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামী ফারুক তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, রাসেল হাওলাদার, ইব্রাহিম, রাসমোহন ও আব্বাসসহ সকল অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার ও ফাঁসি দাবি করছি এবং যাতে কোন মহল এই মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে আমাদের ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করতে না পারে তার জন্য মানবতার মা ও দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত যুবলীগ নেতা রুমানের মা ফাতেমা বেগম, ভাই মামলার বাদি মফিজ উদ্দিন মিন্টু, হাফিজ উদ্দিন পিন্টু, ইউপি সদস্য জিয়াউদ্দিন সুজন, বোন জেবুন নাহার অনিসহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম মুন্সী, যুবলীগ সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ছিয়ানুর হাওলাদার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।