রাঙ্গাবালী আ’লীগের নেতা কর্তৃক দলীয় কর্মীকে দুইঘন্টা আটকে নির্যাতন

প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২০
0Shares

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাঙ্গাবালী ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন খানের বিরুদ্ধে একই ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদককে দুইঘন্টা আটকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে উপজেলার বাহেরচর বাজারে চেয়ারম্যানের বাসার সামনের নিজস্ব অফিসে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন মারধরে আহত রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, রাঙ্গাবালী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ও দৈনিক পটুয়াখালী পত্রিকার রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি মিজানুর রহমান তসলিম (৪৬)। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার সকালে আহতাবস্থায় তসলিমকে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে মারধরের শিকার মিজানুর রহমান তসলিম জানান, তিনি রাঙ্গাবালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান। ইতোমধ্যে পোস্টার ব্যানার করেছেন। এলাকার সর্বস্তরের জনগণ তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়। এ কারণে তার ওপর বর্তমান চেয়ারম্যান মামুন খান ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকিও ভয়ভীতি দেখায়ে আসছিল। ঘটনারদিন সোমবার রাত ৮ টায় বাহেরচর বাজারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ছোঁয়া মেডিকেল হলের সামনে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাঙ্গাবালী ইউপি চেয়ারম্যান মামুন খানের ২৫-৩০ জন লোক এসে মিজানুর রহমান তসলিমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারপিট শুরু করে। একপর্যায় জোরপূর্বক টেনে-হেঁচড়ে তসলিমকে মটরসাইকেলে তুলে ওই আ’লীগ নেতা মামুন খানের বাসভবনের সামনের ব্যক্তিগত অফিস নিয়ে যায়। সেখানে রাত ৮ থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত তাকে মামুনের টর্চারসেলে (ব্যক্তিগত অফিস) আটকে তিন দফায় মারধর করা হয়। শরীরের বিভিন্ন অংশে কিল-ঘুষি ও লাথি দিয়ে জখম করা হয়। লোকজনের সঙ্গে মামুন নিজেও তাকে মারধর করে। তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় বলেও তসলিম জানায়।পরে তসলিমের স্ত্রী আল হোমায়রা নিপা চেয়ারম্যানকে ফোন করে অনেক আকুতি করে প্রায় ৩ঘন্টা পর তাকে উদ্ধার করে। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবে না বলে প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে তাদের হাত থেকে রক্ষা  পায় বলে দাবি করেন তসলিম। তাই প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে এ ঘটনার তদন্ত পূর্বক সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি। তসলিম আরও জানান, এভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মামুন তার টর্চার সেলে নিয়ে অনেক লোককে মারধর করেছে। বর্তমানে তসলিম গলাচিপা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান মামুন খাঁন বলেন, ভাই আমি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তাই কেউ অভিযোগ করলে আমি তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারি কি না? তিনি বলেন এলাকায় একটি প্রতিবন্ধি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষক নিয়োগের কথা বলে একাধিক ব্যাক্তির কাছ থেকে টাকা নেয় তসলিম। এ পর্যন্ত আমার কাছে অনেকে অভিযোগ করেছে তসলিমের বিরুদ্ধে। যারা তার কাছে টাকা পাবে তারা কাল আমার অফিসে নিয়ে আসে। পরে পাওনাদাররা উত্তেজিত হলে আমি তসলিমকে এগিয়ে দিয়ে আসি। সকালে শুনি আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ। বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছে। এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ আলী আহম্মেদ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাকে কেউ অভিযোগও করেননি।