গলাচিপায় খাল দখল করে মাছ চাষ

প্রকাশিত: ৭:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০
0Shares

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সরকারি ভাংরা-মুসুরিকাঠী খাল স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দখল করে মাছ চাষ করছেন। মাছ চাষে খালের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৪ টি ভাসান জালের বেড়া দিয়েছেন তারা। কৃষি ক্ষেতে সেচকাজে পানির জন্য খালটি খনন করা হলেও প্রভাবশালীদের দখল ও মাছ চাষের কারনে খালটি এলাকার সাধারণ মানুষের কোন উপকারে আসছে না। খাল দখলদারদের নিয়ন্ত্রনে থাকায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও রবি মৌসুমে সেচকাজে পানির অভাব দেখা দিবে, ক্ষতিগ্রস্থ হবে খালের দুইপাড়ের কৃষক ।
এদিকে সরকারি খননকৃত খালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অবৈধ ভাবে মাছ চাষ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে খালের দুইপাড়ের কৃষকসহ শতাধিক সাধারণ মানুষ গত ৩০ জুলাই স্থানীয় সাংসদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাংসদ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খালটি পূর্ব দিকের রাবনাবাদ নদ থেকে উঠে এসে আবার পশ্চিম দিক দিয়ে গিয়ে রাবনাবাদ নদেই মিশেছে। খালটি প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। খালের একদিকে আমখোলা ও অন্যদিতে ভাংরা এলাকায় দুইটি জলকপাট দিয়ে খালের পানি নিয়ন্তন হচ্ছে। খালটি খননের পর থেকেই খালের চারটি অংশে ভাসান জালের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ ুরু হয়েছে। খালের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত বাঁশ পুঁতে তাতে জাল দিয়ে এসব বেড়া দেওয়া হয়েছে। এসব জালে কোনো ফাঁস নেই। এ কারণে সহজে পানি প্রবাহিত বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এই খাল দখল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, ভাংরা এলাকার কৃষক হাবিব হাওলাদার জানায়, এই অঞ্চলে আমন ও আউশ আবাদের পাশাপাশি রবি ফসলেরও ব্যাপক আবাদ হয়। বিশেষ করে তরমুজ আবাদে কৃষক বেশি আগ্রহী। জলকপাটও প্রভাবালীদের নিয়ন্ত্রনে । দখল করে খালে মাছ চাষ করায় আমন মৌসুমে অতিবর্ষনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। চাষাবাদ ব্যহত হচ্ছে। রবি মৌসুমে তরমুজ আবাদে সেচকাজ পানির সমস্যা দেখা দিবে বলে জানান তিনি।
ওই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর চৌকিদার বলেন, ‘সরকারের খাল আটকাইয়া মাছ চাষ করার কারণে আমাগো মতন সাধারণ মানুষ পানিও ছুঁইতে পারি না। আগে খালের জাল ফেইল্যা দুই-চারটা মাছ ধরতাম। এহন তাও বন্ধ। আমরা চাই সরকারি খাল উদ্ধার করা হউক।’
খালের পাড়ের কৃষকরা জানায়, স্থানীয় সেকান্দার আলী সিকদারসহ এলাকার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মিলে খালটি নিজেদের দখলে নিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে মাছ চাষ শুরু করেছে। খালের পানি তারা ব্যবহার স্থানীয়দের বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। হুমকি-ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
আমখোলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মনির বলেন, মাছ চাষ করার কারণে এলাকার কৃষক সেচকাজে পানির সমস্যায় পরবে। সাধারণ মানুষজনও খালের পানি ব্যবহার করতে পারছে না। আমার কাছে অভিযোগও এসেছে। আমি দখলদারদের খাল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে বলেছি। কিন্তু কেউ শুনছে না।
এদিকে প্রভাবালী সেকান্দার আলী সিকদার খাল দখল করার বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে বলেন, তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে নয়, এলাকায় লোকজনের দুইটি সমিতি মিলে খালের দুই কিলোমিটার এলাকায় মাছ চাষ শুরু করেছেন। যেহেতু বাড়ির পাশে খাল, তাই মাছ চাষ করছেন। একারণেই অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে সরকারি খালে যে এভাবে মাছ চাষ করা যায় না, তা আগে বুঝেননি তাঁরা।
এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ, আর, এম, সাইফুল্লাহ্ জানান, ওই এলাকার অন্তত ৪০০ হেক্টর জমি সেচকাজে এই খালের পানির প্রয়োজন হবে। কৃষক খেতে সেচসহ ব্যবহারিক কাজেও ব্যবহার করতে পারবে এই খালের পানি। কেই দখলে নিয়ে জালের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করবে এটা হতে পারে না।