আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের  ধাওয়া-পালটা  অর্ধশতাধিক লোক আহত।

প্রকাশিত: ১২:৫৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২০
0Shares
সুনামগঞ্জ  প্রতিনিধিঃ
আওয়ামী লীগে দুই নেতার সমর্থকদের ধাওয়া-পালটা হামলার সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার বালিয়াঘাট নতুন বাজারে শুরু হওয়া ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া,হামলা সংঘর্ষ গড়ায় বিকেল সাড়ে ৫টা অবধি।উপজেলার উওর শ্রীপুর ইউনিয়নের গোলকপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ সভাপতি আবুল খায়ের ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য একই গ্রামের অমৃতপুরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম এ দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে ওই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে দু’দফায় থানা ও ফাঁড়ি হতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে এলোপাতারী লাটিচার্জ করলে সংঘর্ষে জড়িতরা সন্ধা সাড়ে ৬ নাগাদ বাজার ছেড়ে চলে যায় বলে জানান, তাহিরপুর থানার ওসি মো.আতিকুর রহমান।এ সংঘর্ষের মুখে ওই বাজারের আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা সন্ধা ৭টা অবধি তাদের শতাধিক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও উপজেলার বালিঘাঘাট নতুন বাজারস্থ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার গোলকপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল খায়ের ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউপি সদস্য একই গ্রামের অমৃতপুরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের মধ্যে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার এবং গ্রাম পার্শ্ববর্তী শিংরার ধাইর নামক একটি জলমহাল নিয়ে পূর্ব বিরোধ চলে আসছিলো।এসব পুর্ব বিরোধের জের ধরে শুক্রবার রাতে আপক্তির কথাবার্তা বলায় পরদিন শনিবার সকালে বালিয়াঘাট বাজারে শফিকুল ইসলামের পরিবারের লোকজন আবুল খায়েরের সাথে বাদানুবাদে জড়িয়ে উওপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। এরপর বিকেল চারটার দিকে উভয় পক্ষের কয়েকশত সমর্থক আগাম ঘোষণা দিয়েই বাজারে সমবেত হয়ে দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা ইটপাটকেল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।খবর পেয়ে প্রথম দফায় তাহিরপুর থানার টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির একদল সদস্য ঘটনাস্থলে আসলেও পরিস্থিতি অনুকুলে না আসায় এরপর থানা হতে ওসির নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা বিকেল সাড়ে ৫টায় বাজারে পৌছে সংঘর্ষে জড়িত উভয়ে পক্ষের সমর্থকদের এলেপাতারী লাঠিচার্জ করে চত্রভঙ্গ করলে সংঘর্ষে জড়িতরা সন্ধায় বাজার ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।সংঘর্ষে আবুল খায়ের সমর্থকদের মধ্যে আহতরা হলেন,উপজেলার গোলকপুর গ্রামের আবুল খায়ের,মনসাদ,মনির হোসেন, জাকারিয়া,সেলিম,আশরাফুল,আব্দুল্লাহ,বালিয়াঘাট গ্রামের হবিব মিয়া, জাফর আলী, আরিফ,রফিক মিয়া, আল ইসলাম, সাইকুল, হাবিবুল, সাদিকুল, সবুজ মিয়া, পারভেজ,উকিল মিয়া,সাজুল মিয়া,সাইবুল।,শফিকুল ইসলাম সমর্থকদের মধ্যে আহতরা হলেন,উপজেলার গোলকপুর অমৃতপুরের বাসিন্দা সোহেল,জাকির হোসেন,কামরুল কিবরিয়া,শোভা মিয়া,আলফাজ,ফকির,কাবিল ,সেনাজুল সিরাজুল ,হৃদয় ,শামীম,শাহজাহান,জবরুল,আকিকুল,দুলাল,শোয়েব। অপরদিকে আবুল খায়ের সমর্থকদের মধ্যে আহতরা হলেন,উপজেলার গোলকপুর গ্রামের আবুল খায়ের,মনসাদ,মনির হোসেন, জাকারিয়া,সেলিম,আশরাফুল,আব্দুল্লাহ,বালিয়াঘাট গ্রামের হবিব মিয়া, জাফর আলী, আরিফ,রফিক মিয়া, আল ইসলাম,সাইকুল, হাবিবুল,সাদিকুল,সবুজ মিয়া,পারভেজ,উকিল মিয়া,সাজুল মিয়া,সাইবুল। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদশীরা জানান,পুলিশী ধাওয়ার মুখে শনিবার রাতে উভয় পক্ষের গুরুতর আহত কমপক্ষে ২০ হতে ২৫ জন সুনামগঞ্জ জেলা সদর ও তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। সংঘর্ষের কারন ও বক্তব্য জানতে আ’লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম এবং আবুল খায়েরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাদের উভয়ের ব্যাক্তিগত মুঠোফোনের সুইস বন্ধ পাওয়া যায়।

শনিবার রাতে তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান জানান, ফের সংঘর্ষের আশংকায় জনস্বার্থে উপজেলার বালিয়াঘাট বাজারে সন্ধার পর হতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে।