সুনামগঞ্জের সবজি দামে আগুন!

প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২০
26 Views
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
তিন দফা বন্যায় স্থানীয় সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সুনামগঞ্জের সবজী চাষীদের জমিতে বর্ষাকালীন সবজি নেই বললেই চলে। এ কারণে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন হাটে চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সবজি।
শনিবার (২৯ আগস্ট)   বিকালে শহরের কিচেন মার্কেট এলাকায় এবং ষোলঘর পয়েন্ট এলাকায় সবজি বাজারের একাধিক সবজি ব্যবসায়ী জানান, এবারের তিন দফা বন্যায় ও ভারী বৃষ্টিতে স্থানীয় সবজির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। শহরের মানুষের সবজি চাহিদা মেটাতে জেলার বাইরে থেকে সবজি এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ. এসব সবজী সুনামগঞ্জ থেকেই যেত দেশের বিভিন্ন এলাকায়।
সুনামগঞ্জের সবজি বাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাকরুল প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পুঁইশাক ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, মুখি প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শশা প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পেঁপেঁ প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। জালী কুমড়া প্রতিটি ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা করে, ঢুগি ৪ টিতে প্রতি আঁটি ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে, আউশা লাউ ছোট সাইজের ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মোড়া কচু
প্রতিটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
সবজি বাজারে আসা ক্রেতা শাহজান উদ্দিন বলেন, এবার সবজির বাজারে আগুন লেগেছে। যেকোনো ধরণের সবজির দাম অনেক বেশি। ৩শ’ টাকার মাছের সাথে ৪শ’ টাকার সবজি লাগে। সবজির দাম যেভাবে বেড়ে চলেছে, যদি দাম না কমে, তাহলে সবজি কেনা বাদ দিতে হবে।
ক্রেতা মুর্শেদ আলী বলেন, বাজারের ছোট ব্যাগ ভর্তি করতে ৫শ’ টাকার সবজি লাগে। এবারের বন্যায় মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে সবজি চাষীদের, নতুন সবজি বের হবার আগে কমবে না সবজির দাম।
সবজি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, আমরা জেলার বাইরে থেকে সবজি আমদানী করি। এই সবজি বাজারে বিক্রি করি। স্থানীয় সবজি বাজারে নেই। আরও ২-১ মাস এমন দামেই সবজি বিক্রি করা লাগবে।
সবজি ব্যবসায়ী জীবন চন্দ্র ঠিকাদার বলেন, মানুষ দোকানে এসেই বলেন সবজির দাম বেশি। জেলার বাইরের সবজিও দামে কেনা লাগে এবং বিক্রিও করা লাগে দামে। শীতকালীন সবজি না আসা পর্যন্ত সবজি বিক্রিতে লাভ কম হবে।
সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের সবজী চাষী নাদির শাহ্ বললেন, তিন দফা বন্যায় সব ধরণের সবজিক্ষেত ডুবেছে। আগে চাষ করা কোন সবজি নেই। মানুষ আবার নতুন করে বিভিন্ন জাতের মৌসুমি সবজি চাষ করছে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সফর উদ্দিন বললেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সবজি প্রধান এলাকা সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন ছাড়া, দোয়ারাবাজার ওবিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বন্যায় সবজিক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে বেশি। ৫৬ হেক্টরের মতো সবজীক্ষেত ডুবে যাওয়ায় স্থানীয় সবজী বাজারে নেই বললেই চলে।