মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দ্যা নিউ স্টার ২৪.কম এর স্পেশাল পর্ব তুলে ধরা হলো পর্ব-৫

প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০
0Shares

মুজিব কর্তৃক ছয়দফা কর্মসূচীর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার পর আইয়ুব সরকার তাঁকে কারারুদ্ধ করে। শেখ মুজিব এবং আরও চৌত্রিশ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে একটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয়। সরকারিভাবে এ মামলাটির নাম দেয়া হয় ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’। মামলায় অভিযুক্তদের অধিকাংশই ছিলেন পাকিস্তান বিমান এবং নৌবাহিনীর বাঙালি অফিসার এবং কর্মচারী। এদের মধ্যে তিনজন ছিলেন উর্দ্ধতন বাঙালি বেসামরিক কর্মকর্তা। মুজিব ইতোমধ্যে কারারুদ্ধ থাকায় তাঁকে এক নম্বর আসামী হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ মামলায় শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে তিনি অন্যান্য আসামীর যোগসাজশে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। অভিযোগ মতে শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য আসামী ভারতের সহায়তায় পূর্ব পাকিস্তানকে বলপূর্বক বিচ্ছিন্ন করার গোপন পরিকল্পনা করছিলেন। পাল্টা আঘাত হানার এ চালটি অবশ্য বুমেরাং হয়েছিল। ঢাকা কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচার চলছিল যেটা পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের আধিপত্যবাদী মনোভাবের বিরুদ্ধে বাঙালিদের আবেগ অনুভূতিকে প্রবলভাবে আলোড়িত করে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারের সময় মুজিবের জনমোহিনী রূপ আরোও বিকশিত হয় এবং সমগ্র জাতি তাদের নেতার বিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। ১৯৬৯ সালের প্রথমদিকে বিশেষত তরুণ প্রজন্মের দ্বারা সংগঠিত গণআন্দোলন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যে আইয়ুর সরকার দেশে আসন্ন একটি গৃহযুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টায় মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়। শেখ মুজিব ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নিঃশর্ত মুক্তিলাভ করেন।Tns:Ai