নান্দাইলে শসার বাম্পার ফলন শসা চাষ   করে কৃষক  স্বাবলম্বী 

প্রকাশিত: ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০
0Shares
মোহাম্মদ আমিনুল হক বুুলবুল, নান্দাইল (ময়মনসিংহ):
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কৃষক শসা চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বনে গেছেন লাখপতি। অল্প খরচে বেশি মুনাফা হওয়ায় শসা চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষক। উপজেলার প্রায় চার শতাধিক কৃষক শসা চাষের মধ্য দিয়ে ভাগ্য খোলার পথ খুঁজে পেয়েছেন। লাভ বেশি হওয়ায় উপজেলায় শসা চাষি ও চাষের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।
উপজেলার বীর বেতাগৈর, চরবেতাগৈর,  আচারগাঁও, মোয়াজ্জেমপুর, গাঙ্গাইল, শেরপুর, মুসুল্লি, এবং নান্দাইল  ইউনিয়নের কৃষক শসা চাষ করে কৃষি অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। এছাড়াও বিক্ষিপ্তভাবে নান্দাইলের সর্বএ শসা চাষ হয়েছে। শসা ক্ষেতে এখন সবুজের সমারোহ। শসার নান্দনিক শোভায় মুগ্ধ শুধু কৃষকই নন এলাকাবাসীও হয়েছেন। থমকে দাঁড়াচ্ছেন পথিক। সবুজ গাছের সবুজ লতাপাতা দিয়ে যেন সাজানো এ ইউনিয়ন গুলোর গ্রামগুলো।
উপজেলার বীরবেতাগৈর ইউনিয়নের বীরকামট খালী,লোহিতপুর, লক্ষীপুর,
শ্রীপুর, চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুর,চরলক্ষীদিয়া,চরভেলামারী,
চরকোমরভাঙ্গা,চরকামট খালী, মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর, দওপুর, কাদিরপুর,কালিয়াপাড়া,গাঙ্গাইল ইউনিয়নের শাইলধরা,চন্ডিপাশা ইউনিয়নের বাশাটি,শেরপুর ইউনিয়নের পাঁচরুখী,মুসুল্লি ইউনিয়নের কলাপাড়া,নান্দাইল ইউনিয়নের পাঁচানি, ভাটি, এবং খারুয়া ইউনিয়নের হালিউরা
গ্রামে ব্যাপকভাবে শসা উৎপাদিত হচ্ছে।
গুণগত মান ভালো হওয়ায় তাদের উৎপাদিত শসা এলাকার চাহিদা মিটিয়ে
প্রতিদিন রাজধানী শহর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলার ৩৩০ হেক্টর জমিতে শসা আবাদ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম জানান, কৃষকগন লালতীর,সিনজেনটার কিউট, ডেইজি, ইস্পাহানী -২ এবং স্হানীয় উন্নত জাতের শসা বীজ বপন করেছেন। শসা বীজ বপন করার ৪৫ দিন পর ফল আসে।
সরেজমিন দেখা যায়,প্রতিটি এলাকায় যেন কৃষক -কৃষাণী শসা নিয়ে উৎসবে মেতেছেন। বীরকামট খালী গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া ৬০ শতাংশ জমিতে শসা চাষ
করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। তিনি এখন পর্যন্ত ৫৫ হাজার টাকার শসা বিক্রি করেছেন। আরও অন্তত ৩০ হাজার টাকার শশা বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা
করছেন। লোহিতপুর গ্রামের মামুন মিয়া ১২০ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ৯০ হাজার টাকা।
প্রতিমন শসা বিক্রি করছেন ১হাজার ২শত টাকা দরে।
 এ পর্যন্ত তিনি ১ লাখ টাকার
শসা বিক্রি করেছেন। তার আশা তিনি আরও প্রায় ৮০ হাজার টাকার শসা বিক্রি করতে পারবেন। এছাড়াও লোহিতপুর
গ্রামের ফাইজদ্দিন ৪০ শতাংশ, মতিউর ৬০ শতাংশ, হুমায়ুন ১০০ শতাংশ, হারুন ৫০ শতাংশ, বীরকামট খালী গ্রামের মুজিবর রহমান ২৫ শতাংশ, মাইজপাড়া গ্রামের ফারুক মিয়া ৫০ শতাংশ, বাবুল ৪৫ শতাংশ, হুমায়ুন ৬৫ শতাংশ এবং কালাম ৩৫ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছেন।
বীরবেতাগৈর, চরবেতাগৈর, আচারগাঁও
এবং মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে
বেশী শসার আবাদ করা হয়েছে। শসার
দাম বেশী পেয়ে প্রতিটি কৃষকই মহাখুশী।  নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও
কৃষিবিদ মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন,
কৃষি অফিসের সার্বিক পরামর্শ ও তদারকির কারনে নান্দাইলে এ বছর
শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলন ও দাম বেশী পেয়ে প্রতিটি কৃষক
পরিবার খুশী।