শেরপুরে মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী ও তাঁর মেয়ে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৬:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০
0Shares

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ওয়াহিদা খানম ও তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে শেরপুর জেলার সবকয়টি (৫টি) উপজেলায় একযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ১১টা থেকে জেলা ও উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

জেলা ব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নকলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের পাশে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নকলা উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী ও তাঁর মেয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নকলায় মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নকলা উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ইউএনও জাহিদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবুল মনসুর প্রমুখ।

ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলীর ওপর সন্ত্রসী হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, ইউএনও’র ওপর যে হামলা হয়েছে, তা সুপরিকল্পিত। এটাকে ভিন্ন ভাবে প্রবাহিত করার কোন সুযোগ নেই। এ ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবি জানান তাঁরা। তাঁরা বলেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি না হলে, সারা দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা দিবেন। তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা তরুণ ও যুবক বয়সে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। আজ জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিচার চাইতে হচ্ছে। এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক ঘটনা। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা শুনার বা দেখার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেননি বলে তাঁরা জানান। তাঁরা আরও বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের কাজে স্বচ্ছাতার জন্য যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে, তারাই ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল। তাই এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করা প্রয়োজন। সরকারের কাছে দাবি, এ হত্যা চেষ্টার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে যেন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা না হয়। প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত চিহৃত করে আইনের আওতায় এতে উপযুক্ত শাস্থির দাবি জানান তাঁরা।

উল্লেখ্য, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা ইউএনওর সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে শয়নকক্ষে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলীর ওপর বর্বর হামলা চালায়। এ হামলায় তাঁরা দুজন গুরুতর আহত হন। পরে ইউএনও ও তাঁর বাবাকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাঁকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া হয়। তিনি এখন ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন আছেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।