শেরপুরের নকলায় পাঠাকাটা ইউপি সদস্য পদের উপ-নির্বাচনে মাফিজুল ইসলাম বিজয়ী

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২০
62 Views

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সাধারণ সদস্য পদে উপনির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহন চলে। বিকেল পৌণে ৬টার দিকে ভোট গণনা শেষ হয়। নিদৃষ্ট সময়ে এক হাজার ১৮৮ ভোটার এ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। গণনায় ১১ ভোট নষ্ট বলে গণ্য হয় এবং এক হাজার ১৭৭ ভোট বৈধ হিসেবে গণনা করা হয়। বৈধ ভোটের মধ্যে মো. মাফিজুল ইসলাম টিউবওয়েল প্রতীকে ৫৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী এনামুল হক মোরগ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫২ ভোট এবং অপর এক প্রার্থী আকরাম হোসেন ফুটবল প্রতীকে ২৫৮ ভোট পেয়েছেন।

৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সাধারণ সদস্য কৈয়াকুড়ী কান্দাপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেন মৃত্যু বরণ করায় তার ছেলে তরুন সমাজ সেবক মো. মাফিজুল ইসলাম তার বাবার রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে এ উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় সকলের সহানুভুতি পেয়েছেন বলে অনেকে মনে করছেন। একই এলাকা কৈয়াকুড়ী কান্দাপাড়া থেকে মো. আকরাম হোসেন প্রার্থী হওয়ায় সে ২৫৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় ও দশকাহনিয়া এলাকার মো. এনামুল হক একক প্রার্থী হওয়ায় ৩৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন।

বিজয়ী প্রার্থী মো. মাফিজুল ইসলাম বলেন, আমার বাবার রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে এ উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলাম। ভোটাররা তাদের সুচিন্তিত ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করায় সকল ভোটারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি। তিনি সারা জীবন এলাকাবাসীর জীবন মান উন্নয়নে তথা জন কল্যাণে কাজ করতে চান। এর জন্য সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

পাঠাকাটা ইউপির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফয়েজ মিল্লাত জানান, এ উপনির্বাচনে যে প্রার্থী নির্বাচিত হলেন, তিনি জনসেবা করার সুযোগ পাবেন সর্বোচ্চ ২০২১ সালের মার্চ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত (৫ মাস)। তাই প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা এ নির্বাচনকে যথাযথ গুরুত্ব দিলেও, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ততটা প্রভাব ফেলেতে দেখা যায়নি। তবে স্থানীয় নির্বাচন হওয়ায় ভোটারের উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়।

প্রিজাইডিং অফিসার মো. মোশাররফ হোসেন জানান, এ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৪টি বুথে (২টি পুরুষ ও ২টি মহিলা বুথ) ভোট গ্রহন চলে। এ উপনির্বাচনে মোট ভোটার এক হাজার ৭০৯ জন; এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার ৪১ জন বেশি। এ ওয়ার্ডে নারী ভোটার ৮৭৫ জন ও পুরুষ  ভোটার ৮৩৪ জন। নিদৃষ্ট সময়ে এক হাজার ১৮৮ ভোটার এ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। গণনায় ১১ ভোট নষ্ট বলে গণ্য হয় এবং এক হাজার ১৭৭ ভোট বৈধ হিসেবে গণনা করা হয়।

নির্বাচনে দায়িত্ব প্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আহাম্মেদ জানান, নির্বাচন নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ২ জন এসআই, একজন এএসআই ও ১৮ জন পুলিশ সদস্য; ৪জন অস্ত্রধারীসহ ১৭ জন আনসার-বিডিপি সদস্য, এক প্লাটুন র‌্যাব সদস্য (র‌্যাব-১৪), ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি ভ্রাম্যমান টিম বিরতিহীন ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া সকল শ্রেণীর ভোটারের উপস্থিতিতে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এলাকাবাসীরা সন্তুষ্ট।