শেরপুরের নকলায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ঘরবাড়ী ভস্মিভূত

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০
755 Views

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলাধীন পাঠাকাটা ইউনিয়নের পিপড়ী এলাকায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে ছামিদুল ইসলাম নামে এক অসহায় পরিবারের একমাত্র বসত ঘরে আগুন লেগে সব ভস্মিভূত হয়ে গেছে। ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডে এক প্রতিবন্ধী ও এক বৃদ্ধাসহ ৪ সদস্য বিশিষ্ট এ পরিবারের সকলের রাত্রী যাপন করার মতো জায়গা রইলোনা! রইলোনা তাদের খাবারের ব্যবস্থাও।

এ ঘটনায় দরিদ্র পরিবারের ঘরের যাবতীয় মালামাল পুড়ে যায়। পুড়ে যাওয়া মালামাল গুলোর মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দলিলাধিসহ উপজেলা সমাজসেবা অফিস কর্তৃক সরবরাহ করা সরকারি সহায়তা পাওয়ার প্রতিবন্ধী কার্ড, বয়স্ক ভাতার কার্ড ও ঢাকার এক পোশাক কোম্পানীতে কর্মরত ২ নারী কর্মীর এক মাসের বেতন-ভাতা, চাল, ডাল, ধান, ৩টি খাট, লেপ-তোষকসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার মালামাল ভস্মিভূত হয়ে যায় বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার পর পরই নকলা বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলে, বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে দেয় বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়রা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায়, আগুনে সবকিছু ভস্মিভূত হয়ে যায় বলে তারা জানান।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের প্রধান ছামিদুল ইসলাম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান, তার ঘরের বৈদ্যুতিক মিটারে সমস্যা থাকায় প্রায় এক বছর আগে ওই মিটার পরিবর্তনের জন্য বিদ্যুৎ অফিসে গেলে, তারা অনলাইনে আবেদন করার কথা বলেন। তাদের এ নির্দেশনা মোতাবেক অনলাইনে আবেদন করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে আজও তা পরিবর্তন করা হয়নি। আর এ মিটারের ত্রুটির কারনেই হয়তোবা অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয়দের ধারনা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হতে থাকতে পারে। তারা জানান, আগুন লাগার ঘটনায় এ অসহায় পরিবারটি আজ থেকে গৃহহীন হয়ে গেলো। এমতাবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত একটি বসত ঘরের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত একজন বিধবা বয়স্ক নারী, ২ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে ও একজন প্রতিবন্ধীকে অন্যের বাড়িতে বসবাস করতে হবে।