নকলার ১৮টিসহ শেরপুর জেলায় ১৪২টি মন্ডপে দুর্গোৎসবের অনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে

প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০
63 Views

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

শান্তির বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন দেবী দূর্গা। ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়ার পরে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহাষষ্ঠীর মাধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসবের পূর্ণ অনুষ্ঠানিকতা। এবার শেরপুর জেলায় অন্তত ১৪২ টি মন্ডপে পূজা উদযাপন করা হচ্ছে। এরমধ্যে শেরপুর সদর উপজেলার ৬২টি মন্ডপে, নালিতাবাড়ী উপজেলায় ৩৫টি, নকলা উপজেলায় ১৮টি, ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১৭টি ও শ্রীবরদী উপজেলায় ১০টি মন্ডপের মাধ্যমে দুর্গা পূজা উদযাপন হতে যাচ্ছে। প্রতিটি পূজা মন্ডপকে আকর্ষনীয় করতে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি।

দুর্গোৎসব পালনের জন্য প্রতিমা তৈরি শেষ হয়েছে আরও আগে, শেষ হয়েছে রং করা, কাপড় পরিধান করানো ও অলংকৃত করার কাজ। এসব করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরী কারিগররা। প্রতিমা অধিকতর আকর্ষণীয় করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন প্রতিমা তৈরী কারিগররা ও ডেকোরেশন শ্রমিকরা।

নকলা উপজেলা শহরের প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত কালী মাতার মন্দির পূজা মন্ডপের সভাপতি শ্রী সুরঞ্জিত কুমার বণিক জানান, শ্রী শ্রী দুর্গা মায়ের রাতুল চরণে পুষ্পাঞ্জলী দেওয়ার পরে দেবী বোধনের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহাষষ্ঠী, তারপর পর্যায়ক্রমে মহাসপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এবং সর্বশেষে ২৬ অক্টোবর সোমবার বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মাধ্যমে এবারের পূজা উদযাপন শেষ হবে। তিনি আরও জানান, এবার শ্রী শ্রী দুর্গা দেবী দোলায় চড়ে আগমন করেছেন এবং যাবেন গজে চড়ে। দেবীর আগমনটা অপেক্ষাকৃত কম সুখকর হলেও, প্রস্থানটা হবে শান্তিময়; এমনটাই জানিয়েছেন পুরহিতগন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নকলা উপজেলা শাখার সভাপতি দেবজিৎ পোদ্দার ঝুমুর জানান, এবারের পূজাতে করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সরকার নির্দেশিত স্বাস্থবিধি মেনে চলা বাধ্যতা মূলক করা হয়েছে। অতিরিক্ত আনন্দ উৎসব বাতিল করেছেন আয়োজকরা। ভক্তদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেবীর আগমন ও প্রস্থানে শস্য উৎপাদন বাড়বে, দূর হবে করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) নামক অদৃশ্য মরন ঘাতক, দুর্গা দেবীর সুদৃষ্টিতে সর্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে; বিশ্ব হবে মঙ্গলময় এমনটাই প্রত্যাশা করছেন পুরোহিতসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নকলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ কুমার বণিক জানান, এবছর নকলা উপজেলায় ১৮টি পূজা মন্ডপে পূজা উদযাপন করা হবে। এর মধ্যে নকলা পৌরসভা এলাকায় ৪টি, গনপদ্দী ইউনিয়নে ৪টি, নকলা ইউনিয়নে ২টি, উরফা ইউনিয়নে ৩টি, পাঠাকাটা ইউনিয়নে ২টি, টালকী ইউনিয়নে একটি, চরঅষ্টধর ইউনিয়নে একটি ও চন্দ্রকোণা ইউনিয়নে একটি মন্ডপের মাধ্যমে দুর্গাপূজা উদযাপন করা হবে। দুর্গোৎসবকে উপলক্ষ করে পূজামন্ডপ এলাকায় চলছে সাজ-সাজ আমেজ। তবে করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায়ে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। মন্ডপ এলাকায় রাখা হয়েছে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন শাহ জানান, প্রতিটি পূজা মন্ডপে আনসার সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও টহল পুলিশ নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবেন। তাছাড়া স্থানীয় স্বেচ্ছা সেবকগনরাও দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি। ভক্ত বৃন্দ বা পূজারিদের নির্বিঘেœ প্রার্থনা বা আরাদনার মাধ্যমে পূজাকে উপভোগ্য করে তুলতে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে মন্দির ও মন্ডপগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান বলেন, উপজেলার প্রতিটি মন্ডপে সাজ-সাজ রব উঠেছে। তবে এবছর করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) সংক্রমণ বিবেচনায় অন্যান্য বছরের মতো বড় পরিসরে ও দীর্ঘ মেয়াদী পূজা উদযাপিত হবে না। তিনি জানান, করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) নামক অদৃশ্য মরন ঘাতক সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক অতি আনন্দ করা থেকে বিরত থাকতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে; সীমিত করা হয়েছে পূজা উৎসবকে।