বাউফলে কারখানা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে বসত বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত: ১:০২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০২০

এম.নাজিম উদ্দিন,পটুয়াখালী :
পটুয়াখালী বাউফলের কাছিপাড়া ইউনিয়নের কারখানা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, বাড়ি ঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই নদীর তীরবর্তী মানুষগুলো এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। গত কয়েক দিনে শতাধিক পরিবার ভিটাবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনের ফলে কোটি কোটি টাকার সহায়-সম্পদ চিরতরে নদীতে হারিয়ে গেছে। নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে প্রতিনিয়ত বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাউফলের জনপদ। হারিয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর,ধান,ফসলি জমি,পুকুর,বাগান,বাজার,স্কুল,রাস্তাঘাট,সরকারি খাদ্যগুদামসহ অন্যান্য সহায়-সম্পদ। অব্যাহত ভাঙ্গনে বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর কারখানা নদীর ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বাহেরচর লঞ্চ ঘাট থেকে পশ্চিম-কাছিপাড়া পর্যন্ত কারখানা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গন অব্যহত রয়েছে। ওই সব এলাকার মানুষজন এখন ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পেতে তাদের বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, কাছিপাড়া ইউনিয়নের কারখানা, পশ্চিম কাছিপাড়া ও বাহেরচর লঞ্চ ঘাট এলাকায় কারখানা নদীর হিংস্র থাবায় বাহেরচর লঞ্চ ঘাট থেকে দক্ষিন ও পশ্চিম কাছিপাড়া, কারখানা লঞ্চ ঘাট পর্যন্ত কয়েকশ হেক্টর আবাদি জমি, বসতবাড়ি, ঈদগা মাঠ, বৈদ্যুতিক খাম্বাসহ বহু গাছগাছালি, নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে কাছিপাড়া ইউনিয়নের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ৩টি সরকারি প্রাইমারী স্কুল ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক ভয়াবহ ভাঙ্গনের মুখে পরেছে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, উপজেলার প্রায় ৪ লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ মানুষই নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন। কাছিপাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম হাওলাদার বলেন,‘আমার ১ নং ওয়ার্ডের প্রায় ৪০-৫০ টি পরিবার নদীর ভাঙ্গনে সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তাদের ফসিল জমি বিলীন হয়ে গেছে। তারা এখন কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। পশ্চিম-কাছিপাড়ার আকন বাড়ি ও খান বাড়ি ঘটনা মুর্হূতের মধ্যে কারখানা নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা কারখানা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এব্যপারে কাছিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো.রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন,নদীভাঙ্গন রোধে অর্থবরাদ্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় আবেদন জানানো হয়েছে।