গীতিকবি রাধারমণ দত্তের ১০৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল

প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০২০
0Shares
আল হাবিব, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

রাজবৈদ্য অধস্তন পুরুষেরা শ্রীহট্টের প্রাচীন সামন্ত বংশ। ১৮৩৩ সালে এই বংশের প্রভাকর দত্তের দ্বাদশ পুরুষে জগন্নাথপুর থানার কেশবপুর গ্রামে দেশের লোক সংষ্কৃতির উজ্জ্বল নক্ষত্র গীতিকবি রাধারমণ দত্তের জন্ম। ১৮৯১ সালের ১০ নভেম্বর ২৬ কার্তিক ৮৩ বছরে বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আজ মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) গীতিকবি রাধারমণ দত্তের ১০৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী।  রাধারমণের পিতা রাধামাধব পরম পন্ডিত ও অশেষ গুণের অধিকারী ছিলেন। পিতার সংগীত ও সাহিত্য সাধনা রাধারমণকে প্রভাবিত করে। কালক্রমে তিনি একজন স্বভাবকবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার, ও শিল্পী। বিভিন্ন সংগ্রাহকদের মতে, রাধারমণে গানের সংখ্যা তিন হাজারেরও উপরে।
‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো, আজ আমার প্রাণনাথ আসিতে পারে/ কিংবা জবা কুসুম সন্ধ্যামালী আনরে তুলিয়া মনোরঙ্গে সাজাও কুঞ্জ সব সখি মিলিয়া, মুর্শিদ বলি নৌকা ছাড়ো তুফান দেখি ভয় করিও না, মুর্শিদ নামে ভাসালে তরী অকূলে ডুবিবে না / দেখলাম দেশের এই দুর্দশা, ঘরে ঘরে চুরের বাসা’ এমন গান শুনলেই বুঝা যাবে রাধারমণ দত্তের সংগীত বিচিত্র বিষয়ে পরিপূর্ণ। প্রার্থনা তো ছিলই, আত্মতত্ব, দেহতত্ব এবং পরমাত্মা বিষয়ক সঙ্গীত ছাড়াও তাঁর স্বদেশ প্রেমেরও অনেক গান রয়েছে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং ব্যতিক্রম হচ্ছে ধামাইল গান। রাধারমণের গানে শব্দ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা ছিলা না। আল্লাহ্- ঈশ্বরে যেমন তিনি পার্থক্য দেখেন নি, গুরু এবং মুর্শিদ শব্দের পার্থক্য দেখান নি।
তবে গীতিকবি রাধারমণ দত্ত মারা গেলেও তার ধামাইল গান এত জনপ্রিয় যে বিয়ের অনুষ্ঠান, জন্মদিনের অনুষ্ঠান এমনকি বন্ধু বান্ধব সহ সবাই এখনও ধামাইল গান বাজিয়ে ধামাইল নাচ নাচেন। এছাড়াও রাধারমণ দত্তের রচিত গানগুলোর কোন অংশ পরিবর্তন না করে সঠিক সূরে গাওয়া এবং দ্রæত রাধারমণ কমপ্লেক্সে নির্মাণের দাবি সুনামগঞ্জের সংস্কৃতিকর্মী, বাউলশিল্পী ও তার ভক্তদের।
জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাধারমণ দত্তকে ধামাইলের জনক হিসেবে বলা হয়ে তাকে, এখনও বিয়ের কিংবা যে কোন অনুষ্ঠানে তার গান বাজিয়ে পরিবারের সকলে মিলে ধামাইল দেয়, তাই আমাদের দাবি রাধারমণ দত্ত কে নিয়ে আরো বেশি করে যেন চর্চা করা হয়।
সাংস্কৃতিক কর্মী  আশিকুর রহমান জানান, আমরা তরুণ প্রজম্ম এই দাবি করি যে রাধারমণ দত্তের রচিত গানগুলোর কোন অংশ পরিবর্তন না করে সঠিক সূরে গাওয়া হয়।
সাংস্কৃতিক কর্মী সোহেল আহমদ জানান, রাধারমণ দত্তের নামে দ্রæত রাধারমণ কমপ্লেক্সে নির্মাণের দাবি অনেক দিনের, আমরা মনে করি রাধারমণ কমপ্লেক্সে নির্মাণ হলে সেখানে গিয়ে আগামী প্রজম্মরা অনেক কিছু শিখতে ও দেখতে পারবে, তাই আমরা সাংস্কতিক কর্মীরা সরকারের কাছে দাবি জানাই দ্রুত যেন এই কমপ্লেক্সে নির্মাণ করা হয়।
বাউল শিল্পী আল হেলাল জানান, রাধারমণের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রচনাকে খুঁজে বের করে সর্ব সাধারণের মাঝে তুলে ধরার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন সুনামগঞ্জবাসীর সকল বাউল শিল্পীরা।
সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামছুল আবেদীন জানান, বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্তের প্রতিটি সৃষ্টিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার সকল সৃষ্টি অবিকৃতভাবে সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে। রাধারমণ দত্তের সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত ছিল। সেই সম্পত্তি আইনী প্রক্রিয়ায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং রাধারমণ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রাধারমণ কমপ্লেক্সের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। রাধারমণের স্মৃতি রক্ষায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।