ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে গিয়ে সিভিল সার্জনের চোখ কপালে!

প্রকাশিত: ১০:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০২০
30 Views
আল হাবিব, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: 
সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে মোবাইল কোট পরিচালনা করা হয়েছে। বুধবার (১১নভেম্বর)  বিকালে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ও সিভিল সার্জনের সহযোগিতায় এই মোবাইল কোট পরিচালনা করা হয়।
এসময় শহরের ২ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে লাইসেন্স এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানাকৃত ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো হলো নতুন কোর্ট পয়েন্টের সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও উকিল পাড়ার মুক্তি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। লাইসেন্স নবায়ন না করা পর্যন্ত এই ২ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
কিন্তু উকিল পাড়ার মুক্তি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মোবাইল কোর্ট করার সময় সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জনের চৌখ কপালে উঠে যায়, তার কারণ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগী না দেখে মেয়াদ বিহীন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রাইভেট রোগী দেখছেন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. বদিউল আলম ভূঞা।
তাকে দেখে চমকে গিয়ে সিভিল সার্জনের চৌখ কপালে উঠে গেছে, যে সময় মেডিকেল বসে অসহায় দরিদ্র মানুষের সেবা করার কথা সেই সেময় মেয়াদ বিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রাইভেটে রোগী দেখছেন তিনি।
সরকারি ডিউটি রেখে কেনো প্রাইভেট রোগী দেখছেন সিভিল সার্জনের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. বদিউল আলম ভূঞা বলেন, রাতে ডিউটি করেছি। তাই আজ হাসপাতালে যাইনি। এসময় সিভিল সার্জন এই ডাক্তারকে তাৎক্ষনিকভাবে ডায়াগনস্টিক ত্যাগ করতে বলেন। তবে তাকে কোন জরিমানা করা হয়নি।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন জাগো নিউজ২৪.কমকে জানান, সারাদেশে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অংশ হিসেবে আমরা সুনামগঞ্জে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। আমরা সবাইকে অনেক আগেই অবহিত করেছি লাইসেন্স করার। কিন্তু উনারা করেন নি। তাই তাদেরকে জরিমানা করা হচ্ছে। তবে আমি নিজের চৌখকে বিশ্বাস করতে পারছিনা যে সময়ে মেডিকেল অফিসারের হাসপাতাল রোগী দেখার কথা সেই সময় তিনি মেয়াদ বিহীন হাসপাতালে বসে প্রাইভেটে রোগী দেখছেন, আমরা তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেব।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জহিরুল আলম জাগো নিউজ২৪.কমকে জানান বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কিছু অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে। তাই সারাদেশ ব্যাপী অভিযানের অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। ঢাকায় মাইন্ড এইড হাসপাতালে একজন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এবং পরে দেখা গিয়েছে ঐ হাসপাতালের কোনো লাইসেন্স নেই। এছাড়াও কোনো রকমের বিধি নিষেধ উনারা ফলো করেন নি এতো দিন। তাই আমরা এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। যেসব প্রতিষ্ঠানে অসঙ্গতি দেখছি তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।
এসময় আরো  উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. সজীব কবির ভুইয়া, মেডিকেল টেকনিক্যাল ল্যাবের অফিসার রুকুনউদ্দিন মোল্লা।